শুক্রবার বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা স্কুল মাঠে জামায়াত‑এ‑ইসলামি আয়োজন করা সমাবেশে দলীয় নায়েব আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপস করে আবার দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায় এবং ৪ কোটি যুবক এ ধরনের চুক্তি মেনে নিতে পারবে না।
সমাবেশে উপস্থিত উপস্থিতি ও ভক্তদের সমর্থন পেতে, তাহেরের সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক দল‑এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্য রাখেন। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে জোর দেন, তবে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যেতে পারে বলে সতর্ক করেন। ভোটকেন্দ্র দখল করার ইচ্ছা প্রকাশকারী লোকজনকে তিনি মা‑বাবার দোয়া নিয়ে বের হতে আহ্বান জানান।
জনসভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামও অংশ নেন। তিনি ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন, “ভোট প্রদানে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তাদেরকে আমরা ছেড়ে দিব না। তারা সাবধান হয়ে যান” বলে দৃঢ় সুরে মন্তব্য করেন।
তাহেরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে কোনো আপসের ফলে দেশের স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এ ধরনের পরিকল্পনা দেশের বৃহৎ যুবশক্তি স্বীকার করবে না। তার মতে, ৪ কোটি যুবক এই ধরনের বিক্রয়মূলক নীতিকে অস্বীকার করবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহের মন্তব্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা উভয়ই সংরক্ষিত থাকবে বলে পুনরায় জোর দেওয়া হয়। তিনি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী স্লোগান শোনা যেতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং ভোটকেন্দ্র দখল করার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদেরকে মা‑বাবার আশীর্বাদ নিয়ে বের হতে আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটারদেরকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাতে চান।
জাহিদুল ইসলাম ভোটারদেরকে বাধা সৃষ্টি করা কোনো সত্তাকে অবহেলা না করে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি ভোটারদের নিরাপদে ভোট দিতে সক্ষম করার জন্য সকল বাধা দূর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন কোনো প্রচেষ্টা যা ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট করতে চায়, তা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে উপস্থিতদের মধ্যে দেশপ্রেমিক উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেখা যায়। উপস্থিতরা তাহেরের এবং অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্যে তালি ও হর্ষের স্রোত বজায় রাখে। সমাবেশের আয়োজনকারী জামায়াত‑এ‑ইসলামি এই ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের মাধ্যমে তাদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চায়, বিশেষত যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে।
এই সমাবেশের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর আলোচনা পুনরায় তীব্রতা পায়। বিভিন্ন দল ও সংগঠন দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া প্রয়োজনের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী এই সময়ে, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদেরকে স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
তাহেরের মন্তব্য ও অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের সমাবেশ ভোটারদের মধ্যে স্বতন্ত্রতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে, ভোটের সময় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনী কমিশনের তত্ত্বাবধান বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াত‑এ‑ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দল একত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একতাবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ভোটারদেরকে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমাবেশ ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ হতে পারে।



