শুক্রবার ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রথম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত বামতাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের নামের অধীনে গঠিত এই সংগঠন, দেশের শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক সংগ্রামকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সারা দেশে শাখা গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হাকিম লালা উল্লেখ করেন, সংস্কার বা জোরপূর্বক কোনো পদ্ধতি দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা পৌঁছানো সম্ভব নয়। তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের শপথের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সম্মেলনই সেই শপথের সূচনা।
দুই দিনব্যাপী এই প্রথম সম্মেলনে বদরুদ্দীন উমরের প্রতি সম্মানসূচক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। উমরের কর্মজীবনের মূলমন্ত্র, শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলাই একমাত্র পথ, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফয়েজুল হাকিম আহ্বান জানান, উমরের আদর্শ অনুসরণে সংগঠন গঠনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উদ্বোধনী সেশনের পরে, নেতাকর্মীরা একটি শোভাযাত্রা পরিচালনা করে। শোভাযাত্রা বিভিন্ন প্রধান সড়ক অতিক্রম করে, শেষমেশ বাংলাদেশ মুদ্রা ও ব্যাংক (বিএমএ) ভবনের মিলনায়তনে সমাপ্ত হয়। এই পদক্ষেপকে সংগঠনের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ফয়েজুল হাকিম, সজীব রায় এবং ভুলন ভৌমিককে তিনজনের সভাপতি মণ্ডলী গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা মঞ্চে উঠে তাদের মতামত ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সজীব রায়, ভুলন ভৌমিক, মজিবর রহমান, কাজী ইকবাল, মিনহাজ আহমেদ, জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আলবার্ট সরেন, ছোটন তনচঙ্গা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম, শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শফি রহমান এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার সকলেই তাদের বক্তব্য দিয়ে সংগঠনের লক্ষ্য ও কৌশল বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
মিটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ড. আকমল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। এই বক্তব্যটি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাস উপস্থাপন করেন, যা শ্রমিকদের অধিকার ও সংগঠন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ফয়েজুল হাকিম আন্তর্জাতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলছেন, সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক নীতি ও জাতীয় স্বার্থের সংযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সম্মেলনের শেষের দিকে, উপস্থিত নেতারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, আগামী মাসে দেশব্যাপী শাখা গঠন ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো দৃঢ় করা হবে। এছাড়া, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক আন্দোলন চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এই প্রথম সম্মেলনকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শ্রমিক শ্রেণীর স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গৃহীত এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, শ্রম নীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারে প্রভাব পড়তে পারে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, পরবর্তী ধাপে স্থানীয় স্তরে সমাবেশ ও প্রতিবাদ সংগঠিত করে সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হবে।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, তারা শুধুমাত্র তত্ত্বগত আলোচনা নয়, বাস্তবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করবে। সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, শাখা গঠন, কর্মশালা এবং রাজনৈতিক প্রস্তুতি এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি যোগ করবে।



