23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানগ্রিনল্যান্ড শার্কের দীর্ঘায়ুতে ডিএনএ মেরামত জিনের ভূমিকা উন্মোচিত

গ্রিনল্যান্ড শার্কের দীর্ঘায়ুতে ডিএনএ মেরামত জিনের ভূমিকা উন্মোচিত

আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের অন্ধকার গভীর জলে বসবাসকারী গ্রিনল্যান্ড শার্ক শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় দেখেছেন, এই বিশাল শার্কের চোখের টিস্যুতে ডিএনএ মেরামত জিনের সক্রিয়তা অন্য প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি। এই বৈশিষ্ট্যই সম্ভবত তাদেরকে বয়সের ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং শতাব্দীজুড়ে স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখে।

সুইসের বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী লিলি ফগের নেতৃত্বে একটি দল ১০টি গ্রিনল্যান্ড শার্কের চোখের নমুনা বিশ্লেষণ করেছে। শার্কগুলোর বয়স ১৫০ বছর পর্যন্ত অনুমান করা হয়েছে, যা তাদের দীর্ঘায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের কোষগুলো ডিএনএ ক্ষতি দ্রুত মেরামত করতে সক্ষম, ফলে কোষের মৃত্যু ও টিস্যু ক্ষয় কমে।

সাধারণ ধারণা ছিল যে এই শার্কের দৃষ্টিশক্তি সীমিত বা সম্পূর্ণ অন্ধ। তবে ফগের দল চোখের টিস্যুতে উপস্থিত জিনের কার্যকলাপের বিশ্লেষণ করে দেখেছে, শার্কের দৃষ্টিশক্তি সময়ের সঙ্গে অবনতি হয় না। ডিএনএ মেরামত প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী এনজাইমের উৎপাদন স্তর তরুণ প্রাণীর তুলনায় সমান বা ততোধিক, যা টিস্যুর স্বাস্থ্যের দীর্ঘস্থায়িত্বে সহায়ক।

গ্রিনল্যান্ড শার্কের জিনোমের পূর্ববর্তী গবেষণায়ও বয়সজনিত ক্ষয় রোধের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়েছে। ফগের দল এই ফলাফলকে সমর্থন করে উল্লেখ করেছে, চোখের টিস্যুতে ডিএনএ মেরামত যন্ত্রের সক্রিয়তা টিস্যু পুনর্নবীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রক্রিয়া কোষের মৃত্যুর হার কমিয়ে, টিস্যুকে তরুণ অবস্থায় রাখে।

শার্কের অন্যান্য অঙ্গও বয়সের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে চোখের গবেষণাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করেছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, শার্কের এই প্রাকৃতিক মেকানিজমের উপর ভিত্তি করে মানবদেহের বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় নতুন থেরাপি বিকাশ করা যাবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের অঙ্গগুলোতে ডিএনএ ক্ষতি জমা হয়, যা কোষের কার্যকারিতা হ্রাস করে। গ্রিনল্যান্ড শার্কের ডিএনএ মেরামত জিনের উচ্চ সক্রিয়তা কীভাবে মানব দেহে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে বর্তমান ফলাফলগুলো দেখায়, প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত এই মেরামত প্রক্রিয়া বয়সজনিত রোগের প্রতিরোধে সম্ভাব্য পথ খুলে দিতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফল সপ্তাহের বৈজ্ঞানিক সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্তসারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। শার্কের দীর্ঘায়ু নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বয়সের প্রভাবকে ধীর করা বা থামানোর নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা যায়।

আপনার কি মনে হয়, প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত এই ডিএনএ মেরামত প্রক্রিয়া মানব চিকিৎসায় কতটা প্রয়োগযোগ্য হবে? ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments