জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তার মুখপাত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ শোজিব ভূয়াইন শুক্রবার রাতের প্রেস কনফারেন্সে বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমানের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, তরিক রহমানের দল প্রচারাভিযানের প্রথম দিন থেকেই নির্ধারিত সময়সীমা অমান্য করে রাত্রিকালীন জনসমাবেশের আয়োজন করছে।
এনসিপি অফিস, বাংলা মোটর, ঢাকার এক শাখায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আসিফ উল্লেখ করেন, বিএনপি দল বিকাল ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুমোদিত সময়ের বাইরে মাইক্রোফোন ও সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে সভা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, রাত ১২টা এবং এমনকি ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত সভাগুলো স্পষ্টতই আচরণবিধির লঙ্ঘন।
আসিফের মতে, এমন লঙ্ঘন শুধুমাত্র একক দলের নয়, বরং সমগ্র রাজনৈতিক পরিবেশের শৃঙ্খলা নষ্টের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান, যাতে সর্বোচ্চ স্তরের লঙ্ঘনকে দমন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। “আচরণবিধি সবার জন্য সমান,” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি এনসিপি বা দশদলীয় জোটের কোনো সদস্যই লঙ্ঘন করে, তবে তাকে যথাযথ শাস্তি দিতে হবে।”
প্রেস কনফারেন্সে মিডিয়ার পক্ষপাতের অভিযোগও উঠে। আসিফ উল্লেখ করেন, ঢাকা‑১৭ এলাকায় ৬৯ জন সাংবাদিক, যার মধ্যে সিনিয়র এডিটরও অন্তর্ভুক্ত, নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রচারাভিযানের সাথে যুক্ত হয়েছে। তিনি মিডিয়ার পূর্বের পক্ষপাতের ফলাফল উল্লেখ করে সতর্ক করেন, “আপনারা ইতিমধ্যে মিডিয়া পক্ষপাতের পরিণতি দেখেছেন। আশা করি আবার তা না ঘটে।”
এছাড়া, আসিফ অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে, রেফারেন্ডাম প্রচারকে প্রান্তিক এলাকায় পৌঁছাতে হবে, যাতে গুজব দূর করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, তথ্যের সঠিক প্রবাহই ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
এই অভিযোগের পর, তরিক রহমানের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল দলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জনসমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।
নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি। তবে নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে, এমন অভিযোগের পর্যালোচনা ও প্রয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে চলমান এই তর্কভিত্তিক পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষত, যদি নির্বাচন কমিশন দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে বিষয়টি সমাধান না করে, তবে অন্যান্য দলও অনুরূপ লঙ্ঘনের দিকে ঝুঁকতে পারে।
অবশেষে, আসিফের বক্তব্যে উল্লেখিত মিডিয়া পক্ষপাতের অভিযোগ এবং রেফারেন্ডাম প্রচারের প্রয়োজনীয়তা, উভয়ই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে, এই ধরনের অভিযোগের সমাধান কীভাবে হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে।



