গিয়ানি ইনফ্যান্টো রাবাতের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মরোকোর প্রিন্স মুলায় রাশিদের সঙ্গে তিনি একসাথে দাঁড়িয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং ইনফ্যান্টোর মুখভঙ্গি কিছুটা লজ্জিত দেখায়।
আফকন ট্রফি হস্তান্তরের সময় তিনি সেনেগাল দলের খেলোয়াড়দের কাছে ট্রফি পৌঁছে দেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেন। এই মুহূর্তে ট্রফি বিতরণে কিছু অস্বস্তি দেখা যায়, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর ইনফ্যান্টো ব্রাহিম দিয়াজকে একটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করেন, যা টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন সফল পেনাল্টি নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। দিয়াজকে এই পুরস্কারটি টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ইনফ্যান্টো দিয়াজকে আশ্বস্ত করেন যে, ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিয়মিত বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নেন এবং তা কোনো বড় সমস্যা নয়। তিনি এই মন্তব্যে নিজের নেতৃত্বের স্বচ্ছতা তুলে ধরেন।
পুরস্কার প্রদান শেষে ইনফ্যান্টো আবার তার আল্পাইন সদর দফতরে ফিরে যান, যেখানে তিনি মরোকো ও সেনেগাল দলের সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনা ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেই সপ্তাহে টিকিটের উচ্চ দাম, পরিবহন ব্যবস্থার অকার্যকারিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ভৌগোলিক উত্তেজনা নিয়ে অভিযোগগুলো সাময়িকভাবে পিছিয়ে যায়। এই বিষয়গুলো সাধারণত ফিফা ইভেন্টে আলোচনার শীর্ষে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক সংযুক্ত করার হুমকি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত মিটিংকে প্রভাবিত করে। মিটিং চলাকালীন একটি বিশাল বুফে থামিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য বয়কটের ছায়া দেখা গিয়েছিল, তবে ট্রাম্পের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ায় এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
ফিফা এই সময়ে কোনো মন্তব্য না দিয়ে, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদান করার সিদ্ধান্তকে সমর্থনকারী একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এই বিবৃতি ট্রাম্পের অন্যান্য দেশের আক্রমণাত্মক নীতি সত্ত্বেও প্রকাশিত হয়।
ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইনফ্যান্টোর সম্পর্ক কখনোই মসৃণ নয়। মে মাসে তার নিজস্ব বার্ষিক কংগ্রেসে দেরি করে উপস্থিত হওয়ার পর কিছু প্রতিনিধিরা মিটিং থেকে বেরিয়ে যায়। এই ঘটনা তার মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে দেখা যায়।
গ্লোবাল ফুটবলের নতুন সংস্করণে ১৬টি ইউরোপীয় দল অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং ডাভোসে অনুষ্ঠিত একটি সভা এই সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইনফ্যান্টো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ স্থাপন করতে চেয়েছেন।
ইনফ্যান্টো নিজেকে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং এই সপ্তাহে তিনি কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ফুটবল জগতের প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে।
২০২২ সালে মানবাধিকার বিশ্বকাপের সময় ‘প্রায় কোনো ঘটনা না’ বলে একটি রক্ষা করা হয়েছে, যদিও তা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। ইনফ্যান্টো এই রেকর্ডকে তার নীতি সমর্থনের একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেন।
আগামী সপ্তাহে ফিফা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করবে, এবং ইনফ্যান্টোর নেতৃত্বে এই ইভেন্টগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে তা নজরে থাকবে।



