ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি – আজ বিকেলে জাত্রাবাড়ি এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (IAB) আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম একটি নির্বাচনী র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দেশের নিরাপত্তা ও ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। রেজাউল করিমের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, যারা নিজের মিত্রকে ধোঁকা দিতে পারে, তাদের হাতে ধর্ম ও জাতি নিরাপদ নয়।
র্যালিটি IAB-র ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী হাজি মো. ইব্রাহিমকে সমর্থন জানাতে অনুষ্ঠিত হয়। রেজাউল করিম র্যালির সূচনায় উল্লেখ করেন, এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ভোটারদের পার্টির প্রতীক – হ্যান্ড ফ্যানের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি বলেন, পার্টি কোনো সহজ পথ বেছে নেয়নি, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতা অর্জন করেনি।
আলোচনার সময় রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, কিছু দল জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা রচনা করেছে। তিনি এই পরিকল্পনাকে ‘জনমতকে গলিয়ে ফেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সতর্ক করেন, এমন কৌশল দেশের স্বার্থের বিরোধী। তার মতে, ইসলামী আন্দোলন সৎ ও স্বচ্ছ নীতি অনুসরণ করে।
রেজাউল করিমের মতে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময়ই IAB প্রথম দলগুলোর মধ্যে ছিল, যারা রাস্তায় নেমে গুলি সহ্য করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তিনি এই ঘটনাকে পার্টির বীরত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং জোর দিয়ে বলেন, সৎ সংগ্রামই দেশের সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, IAB-এর রাজনৈতিক কার্যক্রমের লক্ষ্য ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পার্টি সামাজিক ন্যায়বিচার, দারিদ্র্যমুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রচারকে অগ্রাধিকার দেয়। রেজাউল করিমের মতে, এসব লক্ষ্যই পার্টিকে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর থেকে আলাদা করে।
রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গিয়েও দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হয়নি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল শোষণ, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা, তবে আজকের বাস্তবতা দেখায় যে সাধারণ মানুষের জীবনমান তেমন উন্নত হয়নি।
এদিকে, রেজাউল করিমের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়া সম্ভব নয় যদি ইসলামী নীতি অবহেলিত থাকে। তিনি পার্টির নীতি ও কর্মসূচিকে ইসলামী নীতির সঙ্গে সংযুক্ত করে, ভোটারদের হ্যান্ড ফ্যানের প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
র্যালিতে IAB-র ঢাকা-৫ প্রার্থী হাজি মো. ইব্রাহিমও উপস্থিত থেকে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও পার্টির লক্ষ্য সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি রেজাউল করিমের বক্তব্যকে সমর্থন করে, ভোটারদের পার্টির নীতি অনুসরণে উৎসাহিত করেন।
র্যালির পরপরই বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির সক্রিয় সদস্য, নেতা ও সাধারণ মানুষ দেমরা ও জাত্রাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন দিক থেকে সমাবেশে যোগ দেন। রেলির পথে চলা দলগুলোতে পার্টির অন্যান্য নেতারাও অংশ নেন, যা সমাবেশের জনসাধারণের সমর্থনকে দৃঢ় করে।
এই র্যালি, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে IAB-র অবস্থান ও ভোটারদের কাছে তার বার্তা পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেজাউল করিমের মন্তব্য ও পার্টির কার্যক্রমের মাধ্যমে, নির্বাচনের পূর্বে ধর্মীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।



