গত রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ১৯:৪৫ টায় মালাগা থেকে মাদ্রিদের পথে চলা একটি উচ্চগতির ট্রেনের ধাক্কা ঘটায় ৪৫ জনের মৃত্যু ও বহু আহত। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, ট্র্যাকের একটি সরল অংশে ফাটল ঘটেছিল, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল দুটি রেলগাড়ি: বেসরকারি কোম্পানি ইরিও পরিচালিত ট্রেন এবং রাষ্ট্রীয় রেনফে পরিচালিত ট্রেন। ইরিও ট্রেনের শেষ তিনটি গাড়ি (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম) ট্র্যাক থেকে বেরিয়ে বিপরীত দিকের রেনফে ট্রেনের পথে গিয়ে ধাক্কা খায়।
ইরিও ট্রেনটি মালাগা থেকে মাদ্রিদের দিকে রওনা হওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পরে এই সংঘর্ষ ঘটেছে। ট্রেনটি মাদ্রিদে পৌঁছানোর পথে হুয়েভা গন্তব্যে চলা রেনফে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় রেনফে ট্রেনের সামনের গাড়িগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিএআইএফ রেল তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরিও ট্রেনের সামনের গাড়িগুলোর চাকার পৃষ্ঠে ছোট দাগ (নটচ) পাওয়া গিয়েছে। একই ধরনের দাগ তিনটি পূর্বে চলা ট্রেনের চাকার ওপরও দেখা গিয়েছে, যা ট্র্যাকের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
তদন্তে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার (১৫ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যের একটি ফাঁক ট্র্যাকের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। এই ফাঁকই ট্র্যাকের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে, ফলে ষষ্ঠ গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ট্র্যাক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সিএআইএফের মতে, এই ফাঁকই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্টে এই সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরিও ট্রেনের চাকার পৃষ্ঠে দাগ পাওয়া গিয়েছে, যদিও সেসব গাড়ি নিরাপদে ট্র্যাক পার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চাকার দাগ ও ট্র্যাকের বিকৃতি একসাথে ট্র্যাকের ফাটলকে সমর্থন করে।
কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭:২১, ১৯:০১ এবং ১৯:০৯ সময়ে চলা তিনটি ট্রেনের চাকার দাগ একই জ্যামিতিক প্যাটার্নের। এই সমজাতীয় দাগগুলো ট্র্যাকের একই অংশে চাপের প্রভাব নির্দেশ করে।
ইরিও ট্রেনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ গাড়ির চাকার পৃষ্ঠেও একই ধরনের দাগ পাওয়া গিয়েছে। তবে পঞ্চম গাড়িতে বাহ্যিক প্রান্তে একটি দাগ দেখা গিয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ট্র্যাকটি ইতিমধ্যে বাইরে দিকে ঝুঁকছিল, এবং ষষ্ঠ গাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে এই ঝুঁকির চিহ্ন ছিল।
সিএআইএফ এই প্রাথমিক প্রতিবেদনকে “কাজের অনুমান” (working hypothesis) হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জোর দিয়েছে যে পরবর্তী বিশদ বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে এই অনুমানকে নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে তদন্ত দল ট্র্যাকের উপাদান, চাকার ধাতব গঠন এবং গতিপথের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্তভাবে, ট্র্যাকের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড ও পূর্বে ঘটিত কোনো অনুরূপ সমস্যার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর আইনি দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট রেল সংস্থাগুলোর উপর দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে। তদন্তের ফলাফল যদি ট্র্যাকের ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সিএআইএফের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর, স্পেনের আদালত ও রেল সংস্থাগুলো এই তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য শুনানি পরিচালনা করবে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল জনসাধারণের কাছে সময়ে সময়ে জানানো হবে।



