বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা-১৭ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১৭) নির্বাচনী র্যালিতে ভোটারকে শস্যের গুচ্ছের (বিএনপি) সমর্থনে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ব্রিকস রোড গাউন্ডে, ভাসান্তেক এলাকায় একত্রিত সমর্থকদের সামনে দেশের উন্নয়নের ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান পরিকল্পনা তুলনা করে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাহমানের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়ে আসে যে, যখন জনগণ শস্যের গুচ্ছকে সমর্থন দেয়, তখন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হয়। তিনি অতীতের শাসনকালে অর্জিত উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে, বর্তমান সময়ে একই পথ অনুসরণ করার জন্য ভোটারকে অনুরোধ করেন।
বিএনপি-র বিকাশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি জোর দিয়ে বলেন, শস্যের গুচ্ছের প্রার্থী হিসেবে তিনি ও তার দলকে সর্বত্র জয়লাভ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারিকের উপস্থাপিত নীতি কার্যকর করা যায়। তিনি ভোটারকে নিজের পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে আবেদন করেন, যেন তারা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় শস্যের গুচ্ছের পক্ষে ভোট দেন।
রাহমানের বক্তৃতায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ফুটবল দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন আমিনুল হক, যাকে মঞ্চে উপস্থিত করা হয়। তিনি বললেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে পেশাদার করে তোলার জন্য এমন প্রতিভা উন্মোচন করা জরুরি, যাতে ছেলেমেয়েরা ক্রীড়া মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করতে পারে।
বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। তিনি পুনর্গঠনের মূল শর্ত হিসেবে গণতন্ত্রকে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ যদি তাদের প্রতিনিধি স্বাধীনভাবে নির্বাচন করতে পারে, তবে স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের পথ সহজ হবে।
দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি জোর দেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের চাহিদা সরাসরি জানার এবং তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। তিনি নিজে আজকের র্যালিতে উপস্থিতদের সমস্যাগুলো শোনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সকল স্তরের প্রতিনিধিদের একই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, আওয়ামী লীগ, যা শ্রীমতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বহু মেয়াদে শাসন করেছে, দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের ওপর তুলে ধরেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাহমানের শস্যের গুচ্ছের উন্নয়ন দাবির সঙ্গে সরকারী দলও তাদের নিজস্ব উন্নয়ন মডেলকে পুনরায় নিশ্চিত করতে চায়, যা ভোটারদের মধ্যে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। যদি শস্যের গুচ্ছের প্রস্তাবিত নীতি কার্যকর হয়, তবে বিএনপি-র নেতৃত্বে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প চালু হতে পারে; অন্যদিকে, যদি বর্তমান শাসন দলই জয়লাভ করে, তবে তারা তাদের বিদ্যমান নীতি চালিয়ে যাবে।
রাহমানের র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে, শস্যের গুচ্ছের সাফল্যের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ভোটারদের কাছে শেষ বার্তা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদের হাতে, এবং শস্যের গুচ্ছের জয়ই সেই দায়িত্বের পূরণ হবে।



