সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে মস্কো আবারও তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানাল। রাশিয়ার মতে, শর্ত পূরণ না হলে কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়; ইউক্রেনকে অবশ্যই দেশের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয় যে, দনবাস থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা শান্তি প্রক্রিয়ার মূল শর্ত। তিনি এ বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে বললেন, এই প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হলে চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে দনবাসের বড় অংশ ইতোমধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই অঞ্চলে বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করে, পরে ফলাফলকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির ঘোষণা দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংযুক্তিকে অবৈধ দখল হিসেবে স্বীকার করে না।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎই এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। উইটকফ স্বীকার করেন, আলোচনায় একমাত্র বিষয়টি আটকে আছে এবং তা সমাধান না হলে চুক্তি অগ্রসর হতে পারবে না।
যুদ্ধের ফলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও আর্থিক সহায়তায় ইউক্রেন তার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও রাশিয়ান বাহিনী ধীরে ধীরে দনবাসের কিছু অংশে অগ্রগতি অর্জন করছে।
দনবাস বিষয়ক মতবিরোধের কারণে গত বছরও শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়ু এবং উভয় পক্ষের মূল দাবিগুলি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি অর্জন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ভবিষ্যতে যদি ইউক্রেন দনবাস থেকে প্রত্যাহার না করে, রাশিয়া তার অবস্থান বজায় রেখে আলোচনার শর্ত কঠোর করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় রাখতে হলে তাকে রাশিয়ার দাবিগুলোর প্রতি কূটনৈতিকভাবে সাড়া দিতে হবে। উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে সমর্থন ও চাপের সমন্বয় বজায় রাখছে। তবে রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলোর আইনি অবস্থান নিয়ে বৈশ্বিক মতবিরোধ অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া জটিলতায় ভুগছে।
সংক্ষেপে, রাশিয়া স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে দনবাস থেকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। এই শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি অর্জনের পথে বড় বাধা রয়ে যাবে।



