ইরানের ইসফাহান শহরে, দেশের মুদ্রা পতনের ফলে সৃষ্ট প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটায়। লন্ডনে বসবাসরত পার্নিয়া, তেহরানে শুরু হওয়া আন্দোলন তার পরিবারের সঙ্গে ইসফাহানে ছড়িয়ে পড়ার সময় দেখেছিলেন। তৃতীয় সপ্তাহের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে তথ্যের প্রবাহ সীমিত থাকলেও, শহরের কিছু অংশে সরাসরি ঘটনার ছবি ও বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবাদ দ্রুত তেহরান থেকে ইসফাহানের হাকিম নেজামি ও খাঘানি পাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যেখানে কয়েকশো মানুষ একত্রিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বয়সের পরিসর সাত থেকে সত্তর বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল; পুরুষ ও নারী উভয়ই সড়কে সমবেত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘শাসকের মৃত্যু হোক’ ও ‘শাহের দীর্ঘায়ু’ চিৎকার করে সরকারের নীতি ও অতীত শাসনের প্রতি বিরোধ প্রকাশ করে।
প্রথমে নিরাপত্তা বাহিনী গ্যাস ব্যবহার করে ভিড়কে ছড়িয়ে দিতে চায়, তবে তা ব্যর্থ হওয়ায় তারা সরাসরি পাখির গুলির মতো ছোট গুলি চালায়। এই গুলি শারীরিক ক্ষতি ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পার্নিয়া জানান, তিনি গুলি শোনার সঙ্গে সঙ্গে মানুষগুলো মাটিতে পতিত হতে দেখেছেন এবং রাস্তায় রক্তের ছিটা লক্ষ্য করেছেন। গুলিবিদ্ধদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ে।
অবিলম্বে তিনি গলিপথে পিছু হটে, কিন্তু এক অচেনা নারী তাকে একটি পুরনো অ্যাপার্টমেন্টে টেনে নেয়। সেখানে তিনি ভেতরে আহত প্রতিবাদকারীদের সমাবেশ দেখেন।
লবিতে রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিল, এবং এক তরুণী মেয়ের পা সম্পূর্ণ গুলির গুঁড়িতে ভরে গিয়েছিল। এই দৃশ্যগুলো প্রতিবাদকারীদের শারীরিক কষ্টের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু প্রতিবাদকারী জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা ইরিবের গেট ভেঙে প্রবেশ করে এবং পরে ভবনটি অগ্নিকাণ্ডে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছে বলে অনুমান করা হয়।
সরকারি সূত্রে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অশান্তি দমন করতে গুলি ব্যবহার করা অনিবার্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই ধরনের সহিংসতা নিন্দা করেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও, এই ঘটনার তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই প্রতিবাদকে মোকাবেলা করবে এবং অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



