23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানহাড়ের খোলসযুক্ত টিউমার নির্ণয়: ক্যান্সার নয়, নিরাময়যোগ্য

হাড়ের খোলসযুক্ত টিউমার নির্ণয়: ক্যান্সার নয়, নিরাময়যোগ্য

একটি অস্বাভাবিক গঠনযুক্ত টিউমার, যার বাইরের অংশ হাড়ের মতো কঠিন এবং ভেতরের অংশ নরম, ক্যান্সার নয়, বরং নিরাময়যোগ্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ফলাফল আধুনিক প্যাথলজি জার্নালের ডিসেম্বর ৩ তারিখের প্রকাশে প্রকাশিত হয়েছে এবং রোগীদের অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি থেকে রক্ষা করার সম্ভাবনা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিউমারটির গঠন ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সাধারণ ক্যান্সার টিস্যুর সঙ্গে মেলে না, ফলে এটি একটি নতুন, নির্দোষ টিউমার হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।

প্যাথলজিস্টরা রোগীর টিস্যু নমুনা মাইক্রোস্কোপের নিচে বিশ্লেষণ করে, ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং বায়োকেমিক্যাল চিহ্ন অনুসন্ধান করে টিউমারের প্রকৃতি নির্ধারণ করেন। ২০২২ সালে, একটি অস্বাভাবিক হাড়ের খোলসযুক্ত টিউমার একটি রোগীর অঙ্গ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং তা বিশ্লেষণের সময় ক্যান্সারীয় স্যারকোমা (একটি বিরল ক্যান্সার) এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ দেখা যায়। তবে টিউমারটি কোনো পরিচিত ক্যাটেগরিতে ফিট করে না, ফলে তা অজানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই টিউমারটি কেরাটিন নামক প্রোটিন ধারণ করলেও, যা সাধারণত কিছু ক্যান্সার কোষে পাওয়া যায়, তবু এতে ক্যান্সার নির্দেশক জিনের উপস্থিতি দেখা যায় না। টিউমারের ভেতরের নরম অংশকে ‘সকুইশি’ বলা হয়, আর বাইরের কঠিন স্তরকে ‘বোন শেল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। গবেষকরা উল্লেখ করেন, এই অনন্য গঠন রোগীর মাংসপেশিতে বেসবল আকারের কঠিন গঠন হিসেবে অনুভূত হতে পারে, যা প্রাথমিকভাবে ক্যান্সার সন্দেহ জাগাতে পারে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্যাথলজিস্টরা এই ধরনের টিউমারকে নির্দোষ গ্রোথের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন, ফলে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলি টিউমারের সেলুলার গঠন, ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এবং বায়োকেমিক্যাল বিশ্লেষণকে একত্রিত করে, যা রোগের সঠিক শ্রেণীবিন্যাসে সহায়তা করে।

এই আবিষ্কার রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই আশাব্যঞ্জক, কারণ এটি টিউমার নির্ণয়ের সময় ভুল ধরা থেকে রক্ষা করে এবং অনাবশ্যক চিকিৎসার ঝুঁকি কমায়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, টিউমারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা রোগীর মানসিক স্বস্তি এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভবিষ্যতে, প্যাথলজি ক্ষেত্রে এই ধরনের গবেষণা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে অনুরূপ অস্বাভাবিক টিউমার দ্রুত সনাক্ত করা যায়। রোগীর জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় থেরাপি থেকে রক্ষা করতে, টিউমারের সঠিক শ্রেণীবিন্যাস অপরিহার্য।

আপনার যদি কোনো অনুরূপ লক্ষণ থাকে বা টিউমার সম্পর্কে উদ্বেগ থাকে, তাহলে দ্রুত প্যাথলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এই নতুন নির্দেশিকা রোগীদের জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর নির্ণয়ের পথ প্রদান করে, যা চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে সহজ এবং নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments