মডার্ন প্যাথলজি জার্নালের ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত গবেষণায় একটি অস্বাভাবিক টিউমারকে নির্ণয়ের জন্য নতুন মানদণ্ড উপস্থাপন করা হয়েছে। এই টিউমারটি হাড়ের কঠিন স্তরে ঘেরা, তবে তার ভিতরের অংশ নরম ও তরলসদৃশ, এবং এটি ক্যান্সার নয়, বরং সুস্থ।
টিউমারটি গলফের বলের আকারের সমান, পেশীর মধ্যে কঠিনভাবে বসে থাকে, যা রোগীর কাছে মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। এর চেহারা ও স্পর্শে ক্যান্সারযুক্ত স্যারকমার সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে রোগী অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি পেতে পারেন।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সঠিকভাবে এই টিউমারকে সুস্থ গঠন হিসেবে চিহ্নিত করলে রোগীর মানসিক ও শারীরিক চাপ কমে এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে রক্ষা পায়। নতুন নির্দেশিকায় টিউমারের গঠন, রঙ, হাড়ের স্তরের পুরুত্ব এবং অণু স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলোকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্যাথলজিস্টরা রোগীর টিস্যু নমুনা মাইক্রোস্কোপে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা করে টিউমারের উৎস ও প্রকৃতি নির্ণয় করেন। এই প্রক্রিয়ায় হাড়ের স্তর, কেরাটিনের উপস্থিতি এবং ক্যান্সার-সম্পর্কিত জিনের অভাবের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০২২ সালে জন্স হপকিন্স মেডিকেল স্কুলের একজন প্যাথলজিস্ট একটি অস্বাভাবিক হাড়ে আবৃত টিউমার পর্যবেক্ষণ করেন, যা রোগীর অঙ্গের মধ্যে গড়ে উঠেছিল। টিউমারটি স্যারকমার মতো দেখালেও, তার জিনগত গঠন ক্যান্সার-সম্পর্কিত কোনো মিউটেশন দেখায়নি, ফলে তা অজানা শ্রেণিতে রাখা হয়।
এই টিউমারটি কেরাটিন ধারণ করলেও, ক্যান্সার-নির্দিষ্ট জিনের অনুপস্থিতি এটিকে স্বাভাবিক টিউমার হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। গবেষকরা এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে নতুন নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্যাথলজিস্টদের দ্রুত সঠিক নির্ণয় করার উপায় প্রদান করেছেন।
একজন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের মতে, যদি রোগীর পেশীর মধ্যে গলফের বলের সমান কঠিন গঠন অনুভূত হয়, তবে প্রথমে এটি ক্যান্সার হিসেবে সন্দেহ করা স্বাভাবিক, তবে নতুন মানদণ্ড অনুসরণ করলে তা সুস্থ টিউমার হিসেবে চিহ্নিত করা সহজ হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি রোগীর উদ্বেগ কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নির্দেশিকায় টিউমারের আকার, হাড়ের স্তরের পুরুত্ব, কেরাটিনের উপস্থিতি এবং জিনগত বিশ্লেষণের ফলাফলকে একত্রে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত পদ্ধতি প্যাথলজিস্টদের টিউমারকে ক্যান্সার এবং অ-ক্যান্সার গোষ্ঠীতে বিভাজন করতে সহায়তা করে।
সঠিক নির্ণয়ের ফলে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপি থেকে রক্ষা করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি কমায়। এছাড়া, রোগীর মানসিক স্বস্তি বজায় থাকে, কারণ তারা জানে যে তাদের গঠনটি হুমকি নয়।
এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসা সম্প্রদায়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ টিউমারগুলোর দ্রুত ও সঠিক নির্ণয়ে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোগীরা যদি অনুরূপ লক্ষণ অনুভব করেন, তবে ত্বরিত প্যাথলজি পরীক্ষা এবং নতুন নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।



