মাইক্রোসফট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো, এফবিআই-কে তিনটি ল্যাপটপের বিটলকার রিকভারি কী প্রদান করেছে, যা গুয়ামের প্যান্ডেমিক বেকারত্ব সহায়তা স্কিমের সঙ্গে জড়িত জালিয়াতি মামলায় ব্যবহৃত হয়। এই কী গুলো ব্যবহার করে ল্যাপটপের এনক্রিপ্টেড ডেটা ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব হয়েছে।
বিটলকার হল উইন্ডোজের পূর্ণ-ডিস্ক এনক্রিপশন প্রযুক্তি, যা ডিফল্টভাবে সক্রিয় থাকে এবং ব্যবহারকারীকে ডিভাইস লক ও বন্ধ অবস্থায় ডেটা রক্ষা করে। ড্রাইভ লক হলে কেবল রিকভারি কী থাকলে ডেটা পুনরুদ্ধার করা যায়।
মাইক্রোসফটের ক্লাউডে রিকভারি কী স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোড হয়, ফলে ব্যবহারকারী যদি কী হারিয়ে ফেলেন বা ডিভাইস হারিয়ে যান, তখন মাইক্রোসফটের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায়। একই সময়ে এই কী গুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধে সরবরাহ করা সম্ভব।
গুয়ামের প্যান্ডেমিক বেকারত্ব সহায়তা প্রোগ্রামের জালিয়াতি সন্দেহভাজন কয়েকজনের ল্যাপটপে বিটলকার সক্রিয় ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাসিফিক ডেইলি নিউজ গত বছর এফবিআইকে এই ডিভাইসগুলোর রিকভারি কী চাওয়ার জন্য মাইক্রোসফটকে ওয়ারেন্ট প্রদান করেছে।
ক্যান্ডিট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই ল্যাপটপগুলো জব্দ করার ছয় মাস পর ওয়ারেন্টের মাধ্যমে রিকভারি কী চেয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় মাইক্রোসফটের ক্লাউডে সংরক্ষিত কী গুলো আইনগত আদেশের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়।
মাইক্রোসফটের একটি মুখপাত্রের সঙ্গে টেকক্রাঞ্চের যোগাযোগে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাইক্রোসফট ফোর্বসকে জানায় যে, কোম্পানি প্রতি বছর গড়ে ২০টি অনুরূপ রিকভারি কী সরবরাহের অনুরোধ পায়।
এই ধরনের অনুরোধের ফলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রিকভারি কী ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকায় হ্যাকার যদি মাইক্রোসফটের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে, তবে তারা কী চুরি করে শারীরিকভাবে হার্ডড্রাইভে প্রবেশ না করেও ডেটা ডিক্রিপ্ট করতে পারবে।
ক্রিপ্টোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং জোন্স হপকিন্সের অধ্যাপক ম্যাথিউ গ্রিন এই ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোতে একাধিক সাইবার আক্রমণ ঘটেছে, যা রিকভারি কী চুরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
গ্রিনের মতে, হ্যাকারকে কী ব্যবহার করতে হলে ড্রাইভের শারীরিক প্রবেশাধিকারও প্রয়োজন, তবে রিকভারি কী ইতিমধ্যে হাতে থাকলে ডেটা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়। তিনি ব্লুস্কাইতে পোস্ট করে লিখেছেন, “২০২৬ সালে এই উদ্বেগগুলো বহু বছর আগে থেকেই জানানো হয়েছে, তবু যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় মাইক্রোসফটের গ্রাহক কী রক্ষা করার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ।”
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, ভবিষ্যতে ক্লাউডে সংরক্ষিত রিকভারি কী ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে ডেটা সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, তবে সরকারী অনুরোধে কী সরবরাহের প্রক্রিয়া গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত।
মাইক্রোসফটের এই ঘটনা দেখায় যে, ডিফল্ট এনক্রিপশন সিস্টেমের সুবিধা ও ঝুঁকি দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীর ডেটা রক্ষা করতে কী-র নিরাপদ সংরক্ষণ, অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এধরনের আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও গোপনীয়তা-বান্ধব সমাধান গড়ে তোলা সম্ভব হবে।



