শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি বিকেল প্রায় চারটায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চকরিয়া থানা সমীপে একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা নিয়ে একদল তরুণ হঠাৎ “জয় বাংলা” স্লোগান উচ্চারণ করে। স্লোগান শোনার সঙ্গে সঙ্গে থানার সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।
সেই সময় রিকশা চালক এবং তার সঙ্গে থাকা কিশোর-কিশোরীরা থানার প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনে থেমে স্লোগানটি পুনরাবৃত্তি করে। উপস্থিত কিছু স্থানীয় মানুষ তাদেরকে থামাতে চাইলেও তরুণরা কোনো বাধা না মেনে স্লোগানটি চালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের জানামতে, স্লোগানটি শোনার পর তারা তৎক্ষণাৎ রিকশা চালক ও কিশোরদের বিরোধিতা করে, তবে তরুণরা তাড়াহুড়ো করে থামতে অস্বীকার করে। পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি কিশোরদের পেছনে দৌড়ে যান। দ্রুত গতি বজায় রেখে তিনি রিকশা ও তার সঙ্গে থাকা দুই কিশোরসহ মোট ছয়জনকে আটক করেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রিকশা চালক ও দুই তরুণ ছাড়াও চারজন কিশোর অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেফতারকৃতদের নাম ও বয়স নিম্নরূপ: মো. মারুফ (২০ বছর), মো. সাজ্জাদ (১৯ বছর), শোয়াইব (২২ বছর), মো. মারুফ (১৭ বছর), ওমর ফারুক (১৮ বছর) এবং রাফি (১৬ বছর)। সকলের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে চকরিয়া থানার হেফাজতে রয়েছে।
ওসি মনির হোসেন জানান, রিকশা নিয়ে ছদ্মবেশে কিছু তরুণ “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এমন কর্মকাণ্ড সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে তা সহ্য করা যায় না।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত চালু করা হয়েছে। পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রমাণ সংগ্রহের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তাদের হেফাজতে রাখা অবস্থায় আদালতে রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয় মানুষদের মতে, থানার সামনে এধরনের অপ্রয়োজনীয় স্লোগান উচ্চারণের ফলে সাময়িক অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তাই দ্রুত হস্তক্ষেপ করা পুলিশকে প্রশংসা করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, রিকশা ব্যবহার করে জনসমাগমস্থলে অশান্তিকর স্লোগান দেওয়া একটি অপরাধমূলক কাজ এবং তা আইনের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সংযোগ বাড়িয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর চকরিয়া থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। থানা প্রবেশদ্বারের আশেপাশে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবশেষে, ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আইন অনুসারে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



