ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) অধীন ২০২৪ সালের U-19 বিশ্বকাপের গ্রুপ B ম্যাচে, বাংলাদেশি অধিনায়ক দল হ্যারারে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করে সুপার সিক্স পর্যায়ে প্রবেশের অধিকার অর্জন করেছে। এই জয়টি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং দলকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইন‑আপ ৫০ ওভারের মধ্যে ১৯৯ রানে আটকে যায়। শীঘ্রই ব্যাটিং শেষ করতে না পারা দলটির শেষ স্কোরে তিনজন দ্রুতগতি পেসার প্রধান ভূমিকা রাখেন। ইকবাল হোসেন ইমন ৪১ রান conceding করে তিনটি উইকেট নেন, আর আল ফাহাদ ও রিজান হোসান প্রত্যেকেই দুইটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্কোরকারী ছিলেন আদনিত ঝাম্ব, যিনি ৬৯ বলের মধ্যে ৬৮ রান তৈরি করে দলের একমাত্র বড় ইনিংসের দায়িত্ব নেন। ওপেনার সাহিল গার্গ ৬০ বলে ৩৫ রান এবং উক্তার্ষ শ্রীবস্তভা ৬৫ বলে ৩৯ রান করে সূচনা করেন, তবে উভয়ই বড় স্কোরে পৌঁছাতে পারেননি।
বাংলাদেশের শিকড়ে পৌঁছানোর জন্য ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৪২ বলে ৪৭ রান নিয়ে দ্রুত শুরু করেন। তার সঙ্গী রিফাত ৫৫ বলে ৩০ রান যোগ করেন, ফলে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ৭৮ রান পার্টনার গড়ে ওঠে। এই পার্টনারটি ১৫তম ওভারে গার্গের ক্যাচে জাওয়াদকে বাদ দেয়।
পরবর্তী ওভারে শ্রীবস্তভা রিফাতকে ১৮তম ওভারে আউট করে, ফলে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ব্যাটিংয়ে প্রবেশ করেন। তামিম দ্রুত শটের মাধ্যমে অর্ধশতক পূরণ করেন, তবে রিদভিক আপ্পিদির ক্যাচে শিকড় থেকে বেরিয়ে যান, যখন বাংলাদেশ ২৪ রান বাকি থাকে।
তামিমের পর ক্যালাম সিদ্দিকির সঙ্গে তৃতীয় উইকেটের জন্য ৮৮ রান পার্টনার গড়ে ওঠে। তামিমের অর্ধশতক সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি শীঘ্রই আউট হন, তবে সিদ্দিকি ৫৫ বলে ৩০ রান অচল রেখে দলকে স্থিতিশীল করেন। রিজান হোসানও শেষ পর্যন্ত ২০ রান অচল রেখে দলকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেন।
বাংলাদেশ ৫১ বলের আগে লক্ষ্য স্কোরে পৌঁছে, ফলে ম্যাচটি সাত উইকেটের ব্যবধানে শেষ হয়। এই জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর গ্রুপ B-তে ভারত, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের তিনটি দল সুপার সিক্সে অগ্রসর হয়।
গ্রুপ B-তে বাংলাদেশ বর্তমানে এক পয়েন্ট নিয়ে অগ্রসর হয়েছে, যা পরবর্তী রাউন্ডে বহন করা হবে। দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে একটিকে অতিক্রম করতে হবে, যেখানে নিউজিল্যান্ডের শেষ ম্যাচে ভারতকে হারাতে না পারলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে থাকবে।
সুপার সিক্সে অগ্রসর হলে বাংলাদেশ তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। যদি দলটি তৃতীয় স্থানে শেষ করে, তবে গ্রুপ C‑এর শীর্ষ দুই দল, অর্থাৎ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানে শেষ করলে ইংল্যান্ড ও হোস্ট জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেহেতু জিম্বাবুয়ে গ্রুপ C‑এর তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
গ্রুপ C‑এর ফলাফল ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে; ইংল্যান্ড শীর্ষে, পাকিস্তান দ্বিতীয় এবং জিম্বাবুয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে গ্রুপ C‑এর শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, যদি তারা দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে।
নিউজিল্যান্ডের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ভারতকে হারাতে না পারলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে থাকবে, যা তাদেরকে ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে মুখোমুখি করবে। অন্যদিকে, যদি নিউজিল্যান্ড ভারতকে হারায়, তবে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে এবং ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সারসংক্ষেপে, হ্যারারে অর্জিত এই জয়টি বাংলাদেশকে সুপার সিক্সে প্রবেশের পথে দৃঢ় করে তুলেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। দলটি এখন গ্রুপের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও অগ্রগতি করতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।



