বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টায় থাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের পয়সা ফেলা বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি র্যালির সময় উল্লেখ করেন যে, জামায়াত‑ইসলামি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বে তাদের অবহেলা রয়েছে।
র্যালির মূল উদ্দেশ্য ছিল থাকুরগাঁও‑১ আসনের জন্য তার প্রচার, যেখানে তিনি ধানের শীষকে পার্টির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকগণ তার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি প্রকাশ করে তালি দেন। আলমগীরের ভাষণটি মূলত দুইটি বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ঐ সময়ে জামায়াতের কর্মকাণ্ডের ফলে বহু পরিবার কষ্টের মুখে পড়েছিল এবং দেশের স্বাধীনের স্বপ্নকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতের বর্তমান নীতি ও কার্যক্রমকে নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
বিএনপির স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারকে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। পাঁচবার সরকারে আসা দল হিসেবে তিনি দাবি করেন যে, তাদের শাসনকালে দেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বর্তমান নির্বাচনে ভোটারদেরকে এমন দলকে সমর্থন করতে আহ্বান জানান, যারা স্বাধীনতা বিরোধী কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নয়।
আলমগীরের ভাষণে তিনি একটি অজানা দলের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন, যেটি ভোটের মাধ্যমে স্বর্গে যাওয়ার দাবি করে। তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, আল্লাহ সন্তুষ্ট না হলে স্বর্গে যাওয়া সম্ভব নয় এবং এমন কোনো দলকে সমর্থন করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
বিএনপি ভোটারদেরকে ধানের শীষ প্রতীকযুক্ত দলকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানান, যা দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে এই প্রতীকটি দেশের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এবং ভোটারদেরকে সঠিক নির্বাচন করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সেবা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগণের জন্য বড় সান্ত্বনা হবে। এই প্রতিশ্রুতি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি বলেন, সরকারে এ ধরনের নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, থাকুরগাঁও-১ আসনে তার পারফরম্যান্স এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ব্যবহার করা তার ভোটার বেসকে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে, জামায়াত‑ইসলামির প্রতি তার কঠোর অবস্থান দেশের নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক দায়িত্বের আলোকে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই ধরনের র্যালি ও বক্তব্যের প্রভাব কী হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



