কুমিল্লা-১১ নির্বাচনী এলাকার চৌদ্দগ্রাম, চিওড়া স্কুল মাঠে শুক্রবার বিকেলে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জামায়াত ইসলামীর নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে ভুয়া বলে সমালোচনা করেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, এই কার্ডগুলো অবৈধ এবং ব্যবহারকারীকে আটক করা হবে।
তাহেরের বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, “ফ্যামিলি কার্ড ভুয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এটা বেআইনি। যারা কার্ড নিয়ে যাবে তাদের আটকাবেন। এগুলো নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন।” অতিরিক্তভাবে তিনি যুক্তি দেন, “একটি দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপস করে আবার দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়। এদেশের মানুষ, চার কোটি যুবক এটা হতে দেবে না।”
বিএনপি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামক একটি ভোট সংগ্রহের পদ্ধতি ঘোষণা করেছিল, যেখানে পরিবারভিত্তিক সমর্থন সংগ্রহ করে ভোটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মকর্তা পূর্বে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভোট সংগ্রহে কোনো আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধা প্রদান করা আইনত নিষিদ্ধ এবং এর লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা-১১ নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যিনি পূর্বে বহুবার নির্বাচনী সংস্কার ও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সমাবেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও দ্বিমত প্রকাশের অধিকারকে জোর দিয়ে বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে।”
হাসনাত আরও সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন, “আগামীতে আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। যারা কেন্দ্র দখল করতে আসবেন চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা‑বাবার দোয়া নিয়ে বের হবেন।” তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখকে দেশের গতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে যোগ করেন, “১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণ হবে, আমরা সংখ্যাঘরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করব।”
সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সমাবেশের মূল থিমে সমর্থন জানিয়ে কথা বলেন। যদিও তার বক্তব্যের বিশদ প্রকাশিত হয়নি, তবু তার উপস্থিতি রাজনৈতিক সমাবেশের বহুমুখী স্বরকে তুলে ধরে।
তাহেরের মন্তব্যের মূল বিষয় হল বিএনপি কর্তৃক নির্বাচনের আগে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে অবৈধ বলে চিহ্নিত করা এবং এর ব্যবহারকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পূর্ববর্তী বিবৃতি অনুযায়ী, এই ধরনের কার্ডের মাধ্যমে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য।
এই রকম বিতর্কের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত, ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত বা ভুয়া নাম যুক্ত করার প্রচেষ্টা পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা গিয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ভোট সংগ্রহের জন্য অবৈধ উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং জনমত



