অনূর্ধ্ব‑১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে শেরপুর ও গাজীপুরের মুখোমুখি ম্যাচটি ৩৫ শটের টায়ব্রেকার শেষে শেরপুরের ১৮-১৭ পয়েন্টের পার্থক্যে শেষ হয়, ফলে শেরপুর ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করে। একই দিনে জামালপুর স্টেডিয়ামে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে শূন্য-শূন্য সমতার পর টায়ব্রেকার হয়, যেখানে জামালপুর ৪-৩ পার্থক্যে জয়লাভ করে।
শেরপুরের আক্রমণাত্মক খেলা দ্বিতীয় মিনিটেই ফল দেয়, তবে নিয়মিত সময়ে দু’দলই এক গোল করে সমতা বজায় রাখে। অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে যায়, যেখানে উভয় দল মোট ৩৫ শট নেয়। শেরপুরের গোলরক্ষক শেষ পর্যন্ত ১৮টি শট রোধ করে, গাজীপুরের ১৭টি শটই লক্ষ্যভেদ করে না, ফলে শেরপুর ফাইনালের টিকিট পায়।
শেরপুরের শুটআউটের পরিসংখ্যান দেখায়, দলটি মোট ৩৫ শটের মধ্যে ১৮টি সফল করে, গাজীপুরের শুটআউটের সাফল্য ১৭টি। শেরপুরের আক্রমণাত্মক রণনীতি এবং রক্ষাকারীর দৃঢ় পারফরম্যান্সই টায়ব্রেকারকে উল্টে দেয়। ম্যাচের শেষে শেরপুরের কোচ দলের শৃঙ্খলা ও মনোযোগের প্রশংসা করেন, যা টায়ব্রেকারে বিজয় নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জের প্রথম সেমিফাইনালটি জামালপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মিত সময়ে দু’দলই আক্রমণাত্মক খেলায় লিপ্ত হলেও গোলের কোনো সুযোগ না পেয়ে ০-০ স্কোরে শেষ হয়। উভয় দলে শুটআউটের আগে কোনো গোল না হওয়ায় টায়ব্রেকারই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
শুটআউটে জামালপুর ৪-৩ পার্থক্যে জয়লাভ করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামালপুরের দুইটি অন‑টার্গেট শট, চারটি ফ্রি কিক এবং দুইটি কর্নার ছিল, যেখানে কিশোরগঞ্জের দুইটি অন‑টার্গেট শট এবং তিনটি ফ্রি কিক নথিভুক্ত হয়েছে। শুটআউটে জামালপুরের গোলরক্ষক ও আক্রমণকারীর সমন্বয় দলকে অগ্রগতি এনে দেয়।
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরমানকে জামালপুরের ম্যাচসেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার পারফরম্যান্স শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল রোধ এবং আক্রমণ চালাতে সহায়তা করে। কোচ আরমানের কৌশলগত নির্দেশনা এবং দলের সমন্বয়কে প্রশংসা করেন।
শেরপুর ও জামালপুরের জয় দিয়ে অনূর্ধ্ব‑১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল রোববার নির্ধারিত হয়েছে। দুই দলই সেমিফাইনালে কঠিন টায়ব্রেকার পার করে ফাইনালে পৌঁছেছে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ফাইনালের জন্য উভয় দলের প্রস্তুতি ও কৌশল বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
ফাইনাল ম্যাচটি অনূর্ধ্ব‑১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ স্তরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শেরপুর ও জামালপুরের মুখোমুখি হওয়া প্রত্যাশিত। উভয় দলের সমর্থকরা রোববারের ম্যাচে বড় সংখ্যায় উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় ক্রীড়া উত্সবের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।
এই সেমিফাইনালগুলোতে দেখা যায়, টায়ব্রেকার কেবল শুটআউটের দক্ষতা নয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলগত সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শেরপুরের দ্রুত আক্রমণ এবং গাজীপুরের প্রতিরোধের লড়াই, পাশাপাশি জামালপুরের শুটআউটে ধারাবাহিকতা, উভয়ই টুর্নামেন্টের গুণগত মানকে তুলে ধরেছে।
আসন্ন ফাইনালে শেরপুর ও জামালপুরের কৌশলগত পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি, এবং কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে। উভয় দলই সেমিফাইনালে অর্জিত আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
ফাইনাল ম্যাচের সময়সূচি ও স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এবং টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার হবে। ক্রীড়া প্রেমিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে অনূর্ধ্ব‑১৭ স্তরের ভবিষ্যৎ তারকা ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে।



