সদর উপজেলা, দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সফরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের স্বাধীনতা না চাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা না চাওয়া দলগুলোর হাতে সরকার গঠন করলে জাতি টিকে থাকবে না।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তার ব্যক্তিগত আইনি ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংগ্রাম। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে মোট ১১১টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং এগারোবার জেলখানা ভোগ করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জেলবন্দি চুরি‑ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য করা আন্দোলনের ফলে হয়েছে। তার মতে, যারা তাকে অত্যাচার করেছিল তারা এখন দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন এবং একা নিজের স্বার্থে চলে গেছেন।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এখনো জাতির গর্বের ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তা করেছে বা স্বাধীনতা না চেয়েছে, তাদেরকে সরকার গঠনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। “যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে ক্ষমতায় আনলে দেশ টিকবে না” – এটাই তার মূল আহ্বান।
মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে তিনি জাষ্ঠিভাঙ্গা (বর্তমান জয়পুর) অঞ্চলে ১৯৭১ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর গুলি করে হত্যা করা ঘটনাকে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই কষ্টের স্মৃতি কখনো ভুলে যায়নি। তিনি হিন্দু‑মুসলিম, বৌদ্ধ‑খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও গঠনকে গুরুত্ব দেন।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে ভোটদান অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা মানুষ হিসেবে ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা উচিত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় লিফলেট বিতরণ, ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা এবং এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
প্রচারণা সমাপ্তির সময় জেলা বিএনপি শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা না চাওয়া দলগুলোকে ক্ষমতায় আনা হলে দেশের সংহতি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, ruling party (আওয়ামী লীগ) থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের ঐতিহাসিক প্রবণতা বিবেচনা করা যায়।
মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্য ও নির্বাচনী কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, তাই সকল নাগরিককে ভোটদানকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সফরটি বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মূল থিম ছিল স্বাধীনতা না চাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষমতায় না আনার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতিগুলো স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, এবং ভোটারদের মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য ও প্রচারণা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



