রাজধানীর নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবারে সরেজমিনের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়ে প্রচার চালানো দেখা যায়। বিধি অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও, প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী দেয়ালে, গলিতে এবং এমনকি মেট্রোরেল পিলারেও দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এবং প্রার্থীরা ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের বার্তা পৌঁছাতে পারবেন। এই সময়কালে নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ মেনে চলা বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন এবং ব্যানার তৈরিতে রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক বা অন্য কোনো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার নিষিদ্ধ।
ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা) আসনের পূর্ব রামপুরা এলাকায়, মারকাযুত তাকওয়া বাংলাদেশ মাদ্রাসার সামনে ও আশেপাশের গলিতে বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের পোস্টার দেখা গেছে। পোস্টারগুলো দেয়ালে সাটিয়ে রাখা হয়েছে, যদিও কাইয়ুমের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই এলাকায় পোস্টার লেগে যাওয়ার পর অন্যত্র নতুন পোস্টার উঠতে দেখা যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী সচিব নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী জানান, পোস্টারগুলোকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আদালত ভ্রাম্যমাণভাবে কাজ করছে এবং এক স্থানে পোস্টার নামলে অন্য স্থানে আবার উঠছে।
ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পোস্টার ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। বাড়ির দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং গাড়ির ওপরও পোস্টার লাগিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। অন্য প্রার্থীর পোস্টারের ওপর গয়েশ্বরের পোস্টার সাটিয়ে রাখা হয়েছে, যা বিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।
ঢাকা-৮ (মতিঝিল-রমনা) আসনের শাহবাগ এলাকায় ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারের পোস্টার মেট্রোরেল পিলার, এমনকি ভাস্কর্যের ওপরও লাগিয়ে রাখা হয়েছে। এই ধরনের প্রচার সামগ্রী পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিকর এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসারে নিষিদ্ধ।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্ট্রিমের মতে, ঢাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য অংশেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, লঙ্ঘনকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং সকল প্রার্থীকে বিধি মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বিধি লঙ্ঘনের পরিণতি হিসেবে, লিগ্যাল নোটিশ, পোস্টার অপসারণ আদেশ এবং প্রয়োজন হলে দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচনী পর্যায়ে এই ধরনের লঙ্ঘন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রচারের শেষ দিন ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এরপর ভোটের দিন পর্যন্ত সকল প্রার্থীকে বিধি মেনে চলতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তদারকি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে পোস্টার-ভিত্তিক প্রচার থেকে ডিজিটাল ও সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ স্থানান্তরিত হতে পারে।



