বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম শুক্রবার ফিক্সিং অভিযোগের মুখে স্বেচ্ছায় সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই পদক্ষেপটি ক্রীড়া সাংবাদিকের ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত অভিযোগের পর নেওয়া হয় এবং তিনি বিসিবি অডিট কমিটির চেয়ারসহ সকল দায়িত্ব ত্যাগের ঘোষণা দেন। শামীম জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য, কোনো দোষ স্বীকারের ইঙ্গিত নয়।
অভিযোগটি প্রথম প্রকাশ পায় যখন একজন ক্রীড়া সাংবাদিক তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে শামীমের ফিক্সিং জড়িত থাকার দাবি তুলে ধরেন। এই দাবি দ্রুত ক্রীড়া জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিসিবি-কে তদন্তের দাবি বাড়ায়।
শামীমের ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে তিনি সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন, যার মধ্যে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি তদন্তকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই সরে দাঁড়ানো কোনো দোষ স্বীকারের সমতুল্য নয়। শামীমের মতে, দেশের ক্রিকেটের সুনাম রক্ষা করা তার জন্য ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শামীম ক্রিকেটকে শুধুমাত্র একটি দায়িত্ব নয়, বরং আবেগ ও সম্মানের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষা করা তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শামীম বলেন, তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন এবং যে কোনো তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে এবং ফলাফল ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
বিসিবি এখনো তদন্ত কমিটির গঠন বা সময়সূচি প্রকাশ করেনি, তবে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়ে গেছে। বোর্ড শীঘ্রই নতুন কাউকে নিয়োগের মাধ্যমে শাসন কাঠামো বজায় রাখবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভক্ত ও প্রাক্তন খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছুজন দ্রুত ও কঠোর তদন্তের দাবি করেন, অন্যদিকে কিছুজন শামীমের উপর অভিযোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এই ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে ফিক্সিং সংক্রান্ত উদ্বেগকে আবার তীব্র করেছে।
পরবর্তী সময়ে তদন্তের ফলাফল দেশের ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নীতিতে প্রভাব ফেলবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের লক্ষ্য থাকবে সত্য উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।



