ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ সাতটি সরকারি কলেজে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়নের মূলনীতি (কোর্স‑নং ২০৮) অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। অভিযোগটি বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, দুপুর একটায় শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলা পরীক্ষার সময় প্রকাশ পায়।
পরীক্ষা পরিচালনা দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, তবে প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু সামাজিক মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ে বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। একই প্রশ্নগুলো পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়ায় ফাঁসের সন্দেহ তীব্র হয়।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা স্থগিতের পাশাপাশি তদন্তের দাবি জানায়। তারা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন এবং সাত দিনের মধ্যে ফলাফল জানার আহ্বান জানায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকে তৎক্ষণাত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবের অভিযোগ তুলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী মিডিয়াকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই এ ধরনের অনিয়মকে সমর্থন করে না এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক ই.কে.এম. ইলিয়াস জানান, পরীক্ষার পরিচালনা ও ফলাফলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। তাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নয়। তিনি তদুপরি জানান, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত হবে।
কমিটির কাজের মধ্যে প্রশ্নপত্রের উত্স, ফাঁসের সময় ও পদ্ধতি, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রশাসন তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক বা সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার পুনরায় নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে যদি তদন্তে ফাঁসের প্রমাণ নিশ্চিত হয়, তবে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা উত্থাপিত হতে পারে।
শিক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য সতর্কতার বার্তা বহন করে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার না করা গুরুত্বপূর্ণ।
যদি কোনো শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের অস্বাভাবিক লিক লক্ষ্য করেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট কলেজের প্রশাসনকে জানানো উচিত। দ্রুত রিপোর্ট করলে তদন্তের গতি বাড়ে এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধান সম্ভব হয়।
অধিকন্তু, শিক্ষার্থীদের উচিত পরীক্ষার প্রস্তুতি সময়ে নোট ও রিসোর্সগুলোকে নিরাপদে সংরক্ষণ করা, পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখা এবং অনলাইন গ্রুপে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করা। এই ধরনের সতর্কতা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, সাত কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সাত দিনের মধ্যে ফলাফল জানাবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, এবং পরীক্ষার সময় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করবে।



