শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চূড়ান্ত ম্যাচে তানজিদ তামিমের শতক রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ১৭৪-৪ স্কোরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ওপর জয়ী করিয়ে দিল। তানজিদ এই শতক দিয়ে বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনটি শতক অর্জনের রেকর্ড গড়ে তুললেন, যা তাকে BPL ইতিহাসে নতুন মাইলফলক এনে দিল।
তানজিদের আক্রমণাত্মক খেলা ৬২ বলের মধ্যে ১০০ রান তৈরি করে, যেখানে তিনি ৬টি চতুর্থ এবং ৭টি ছয় রান মারেন। তিনি ৬১ বলের মধ্যে শতক পৌঁছিয়ে দ্রুতগতির শটের মাধ্যমে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন এবং ১৯তম ওভারে তার আউট হওয়া পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে তানজিদ ৮৩ রান শিবাজাদা ফারহানের সঙ্গে একটি শক্তিশালী খোলার অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। ফারহান ৩০টি রান এক বলের গতি বজায় রেখে তানজিদের আক্রমণকে সমর্থন করেন, ফলে উভয়ের মিলিত স্কোর দলকে দ্রুত শুরুর সুবিধা দেয়।
এরপর তানজিদ ক্যান উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৭ রান যুক্ত করেন। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪টি রান তৈরি করে তানজিদের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন, ফলে মাঝের ওভারগুলোতে দলটি ধারাবাহিকভাবে রানের প্রবাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
শেষের দিকে তানজিদ জিমি নীশামের সঙ্গে ৩৩ রান যোগ করেন। নীশাম ৬ বলে ৭টি রান অক্ষত রেখে তানজিদের সঙ্গে দ্রুতগতির শেষ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা দলের মোট স্কোরকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তানজিদের ইনিংসের সময় দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও নষ্ট হয়। পেসার আমের জামাল ১২তম ওভারে তানজিদকে ৫৬ রনে ড্রপ করেন এবং ১৭তম ওভারে ৮৮ রনে আরেকটি সুযোগ মিস করেন, যা তানজিদের দীর্ঘ সময় ব্যাটিংয়ে সাহায্য করে।
চট্টগ্রাম দলের পেসার শোরিফুল ইসলাম এই ম্যাচে ২ উইকেটের সঙ্গে ৩৩ রান দিয়ে ২/৩৩ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তার টুর্নামেন্টের শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক রেকর্ডে ২৬টি উইকেট যোগ করেন, যা একক এডিশনে সর্বোচ্চ। সহপেসার মুকিদুল ইসলামও দুইটি উইকেট নেন, যা চট্টগ্রামের আক্রমণকে কিছুটা সীমাবদ্ধ রাখে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ১৭৪-৪ স্কোর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে, ফলে তারা BPL শিরোপা জয়লাভ করে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের স্কোরের বিশদ প্রকাশ না থাকলেও, রাজশাহীর উচ্চ স্কোরই ম্যাচের ফলাফলকে নির্ধারিত করে।
তানজিদ তামিমের এই শতক তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক হয়ে BPL-এ প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের তিনটি শতক অর্জনের রেকর্ড স্থাপন করে। এই মাইলফলক তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, পুরো লিগের জন্যও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
বিএপিএলের এই চূড়ান্ত পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হবে, যেখানে দলগুলো আবার শিরোপা জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তানজিদ ও তার দল এই জয়কে নতুন মৌসুমের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করবে বলে আশা করা যায়।



