রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা ২৩ জানুয়ারি আবু ধাবিতে একত্রিত হয়ে ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠক পরিচালনা করেছে। আলোচনার সময়সূচি দু’দিনের নির্ধারিত, তবে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একই ঘরে বসে আলোচনা করবেন কিনা তা এখনও অনিশ্চিত। মূল পার্থক্যগুলো অপরিবর্তিত থাকলেও, আলোচনার ফরম্যাটে নতুনত্ব দেখা গেছে।
এই বৈঠকের গুরুত্ব উচ্চ, তবে প্রত্যাশা সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি নিয়ে দৃঢ়ভাবে চাপ দিচ্ছেন; তিনি সম্প্রতি উল্লেখ করেন যে উভয় পক্ষই যদি সমঝোতা না করতে পারে তবে তা “বোকামি” হবে। ট্রাম্পের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরেও, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে এখনও বেশ কয়েকটি মূল বিষয় অনির্ধারিত রয়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের কারণকে দুইটি মূল দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, শান্তি অর্জনের তীব্র ইচ্ছা, এবং দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বজায় রাখার প্রয়োজন। গত বছর ট্রাম্পের সাময়িকভাবে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ফলে ইউক্রেনের জন্য এই সমর্থন পুনরুদ্ধার করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলেনস্কি ডাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকে “খুবই ইতিবাচক” বলে উল্লেখ করেন এবং রাশিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে অতিরিক্ত বায়ু প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর জেলেনস্কি মুখে গম্ভীর অভিব্যক্তি থাকে, তবে এইবার তিনি তুলনামূলকভাবে উচ্ছ্বসিত মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবু তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন। দুই দিনের আলোচনাকে তিনি “একটি পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন, তবে তা ইতিবাচক বলে চিহ্নিত করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। “আমাদের আশা করা উচিত যে এটি আমাদের শান্তির দিকে একটু বেশি এগিয়ে নিয়ে যাবে,” জেলেনস্কি এভাবে মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কি পূর্বে উল্লেখ করেন যে তিনি শান্তি চুক্তির কাঠামো তৈরির প্রায় ৯০% অগ্রগতি অর্জন করেছেন, তবে শেষের ১০% অংশই সর্বাধিক কঠিন হবে এবং রাশিয়া পুরো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। তিনি বিশেষভাবে দেশের পূর্বাঞ্চল ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়কে সর্বোচ্চ বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা এখনও সমাধানহীন। “এটি পুরোপুরি আমাদের দেশের পূর্ব অংশের বিষয়, ভূমি সংক্রান্ত বিষয়,” তিনি বলেন, যা এখনো আলোচনার মূল বাধা রয়ে গেছে।
বৈঠকের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ হবে কিনা তা স্পষ্ট না হলেও, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হল দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান নিশ্চিত করা।
এই ত্রিপাক্ষিক সেশনের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এটি ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আলোচনার ধারাবাহিকতা ও ফলাফল নির্ভর করবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের উপর।
সারসংক্ষেপে, আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠক উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে সীমিত প্রত্যাশা বহন করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির প্রতি জোর এবং ইউক্রেনের শান্তি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা মূল চালিকাশক্তি। তবে পূর্বাঞ্চলীয় ভূমি বিষয়ের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি অর্জন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



