লন্ডনের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিথ্রোতে যাত্রীরা এখন নিরাপত্তা চেক‑পয়েন্টে দুই লিটারের পর্যন্ত তরল বহন করতে পারবে, কারণ নতুন সিটি (CT) স্ক্যানার সম্পূর্ণভাবে সব টার্মিনালে স্থাপিত হয়েছে। এই পরিবর্তনটি হিথ্রোকে বিশ্বব্যাপী প্রথম বিমানবন্দর করে তুলেছে যেখানে এই উচ্চপ্রযুক্তি যন্ত্রপাতি পুরোপুরি চালু।
নতুন স্ক্যানারগুলো ক্যাবিন ব্যাগের ছবি উচ্চ রেজোলিউশনে ধারণ করে, ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা তরল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ বস্তু দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। হিথ্রো কর্তৃপক্ষ জানান, এই সিস্টেম এক ঘণ্টায় হাজার হাজার যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম, যা পূর্বের রেডিয়ো-ফ্রিকোয়েন্সি যন্ত্রের তুলনায় প্রক্রিয়াকরণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
ইউকে-এর অন্যান্য বড় বিমানবন্দর—গ্যাটউইক, এডিনবরা এবং বার্মিংহাম—ও ইতিমধ্যে একই ধরনের স্ক্যানার গ্রহণ করেছে এবং দুই লিটারের তরল সীমা প্রয়োগ করেছে। তবে অধিকাংশ বিমানবন্দরে এখনও ১০০ মিলিলিটার সীমা বজায় রয়েছে, যেখানে তরলকে স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখতে হয়। ব্রিস্টল ও বেলফাস্টে সাম্প্রতিক সময়ে তরল সীমা দুই লিটারে বাড়ানো হয়েছে, তবে বাকি কিছু বিমানবন্দর ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (DfT) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
যাত্রীরা এখন ল্যাপটপসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাগে রেখে নিরাপত্তা গেট পার হতে পারবে, এবং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। এই সুবিধা বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্লাইটের যাত্রী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য সময় সাশ্রয় করবে, ফলে টার্মিনালের গড় অপেক্ষা সময় কমে যাবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দ্রুততর নিরাপত্তা প্রক্রিয়া টার্মিনালের সামগ্রিক ক্ষমতা বাড়াবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী প্রবাহের ফলে রিটেইল, রেস্টুরেন্ট ও পার্কিং সেবার আয় বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তদুপরি, তরল সীমা বাড়ার ফলে ভ্রমণ সামগ্রী বিক্রির চাহিদা কমে যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে যাত্রীদের ব্যাগে বেশি পণ্য বহনের সুযোগ পাওয়ায় চেক‑ইন সেবার ব্যবহার বাড়তে পারে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন স্ক্যানারগুলো অধিক সুনির্দিষ্ট হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাগের হ্যান্ড চেক বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত ম্যানুয়াল চেকের ফলে কর্মী ব্যয়ের কিছু বৃদ্ধি হতে পারে, তবে উচ্চতর চিত্রমানের কারণে সামগ্রিক নিরাপত্তা মান উন্নত হওয়ায় ঝুঁকি কমে যাওয়া প্রত্যাশিত।
নতুন তরল সীমা কেবল হিথ্রো থেকে বের হওয়া ফ্লাইটে প্রযোজ্য, তাই যাত্রীরা গন্তব্য দেশের নিরাপত্তা নীতি অনুসারে তাদের ব্যাগের সীমা পুনরায় যাচাই করা জরুরি। DfT এখনও অন্যান্য বিমানবন্দরে একই নীতি প্রয়োগের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি, ফলে দেশের অভ্যন্তরে তরল নীতি এখনও বৈচিত্র্যময়।
এই পরিবর্তনের পেছনে ২০১৯ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসনের ১০০ মিলিলিটার সীমা ২০২২ সালের শেষ নাগাদ বাতিলের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে প্রযুক্তি সরবরাহের দেরি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিলম্বের কারণে পরিকল্পনা বহু বছর পিছিয়ে যায়। এখন হিথ্রোর সফল বাস্তবায়ন অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভবিষ্যতে সিটি স্ক্যানার প্রযুক্তির চাহিদা বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করবে। একই সঙ্গে, DfT যদি দ্রুত অনুমোদন প্রদান করে, তবে পুরো ইউকে জুড়ে তরল সীমা সমন্বয় হয়ে যাত্রী সন্তুষ্টি ও কার্যকরী দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তবে হ্যান্ড চেকের সম্ভাব্য বৃদ্ধি ও স্ক্যানার রক্ষণাবেক্ষণের খরচকে বিবেচনা করে, বিমানবন্দরগুলোকে ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ করে নীতি নির্ধারণ করতে হবে।
সংক্ষেপে, হিথ্রোর নতুন সিটি স্ক্যানার এবং দুই লিটারের তরল সীমা যাত্রী প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে, নিরাপত্তা মান বজায় রাখবে এবং বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে; তবে অন্যান্য বিমানবন্দরের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত হ্যান্ড চেকের খরচকে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



