শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরীফে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কোনো এমন কাজ করেননি যা তাকে ‘সেফ এক্সিট’ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ শেখ হাসিনার মতো কোনো কাজের সমতুল্য নয়, ফলে তার প্রস্থানের প্রশ্নই ওঠে না।
আলম গর্বের সঙ্গে জানান, “বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে আমি গর্বিত। আমি এই মাটিতে থাকব। আল্লাহ রিজিকের মালিক—যে কাজ পাব, সেই কাজই করব।” এই বক্তব্যে তিনি দেশের প্রতি তার অটুট নিষ্ঠা প্রকাশ করেন।
সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা সম্পর্কে তিনি যুক্তি দেন, “যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বা তুরস্কের অভিজ্ঞতা দেখেছেন? গণভোট হলে সব দেশেই সরকার একটি অবস্থান নেয়। সরকার একটি মত প্রকাশ করে এবং জনগণকে সেই অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়—এটাই আন্তর্জাতিক চর্চা।” এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রচারণা স্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করেন।
গ্রামাঞ্চলে ভোট প্রচারণার ব্যাপ্তি বাড়াতে উপদেষ্টারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গমন করছেন। তিনি জানান, পূর্বে ভোটের গাড়ি ছিল দশটি, এখন তা ত্রিশে বৃদ্ধি পেয়ে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় পৌঁছাবে। এই বিস্তৃত প্রচারণা ইতিমধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে চলেছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ নেই, এ কথাও তিনি পুনরায় জোর দেন। তিনি অতীতের ১৬ বছরকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, যখন ভোটাররা ব্যালট চুরি, ব্যালট বাক্সের সামনে বাধা ইত্যাদি সমস্যার মুখোমুখি হন এবং পুলিশ তাদের অংশগ্রহণে বাধা দেয়। “সেই অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ মুক্তি চায়,” তিনি বলেন, যা বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরে।
মিডিয়া সংস্কার ও সাংবাদিকদের অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক তথ্য অধিকার আইনের কিছু ধারা সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র প্রণয়ন, রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং তথ্যের ওপর সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে একটি নতুন অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সরকার মাত্র ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে; এত স্বল্প সময়ে সবকিছু সম্পন্ন করা সহজ নয়।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান, গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরীফের পীর শাহ শাহিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল আলমের এই মন্তব্যগুলো সরকারের ভোট প্রচার ও মিডিয়া সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। ভোটের গাড়ি সংখ্যা বৃদ্ধি, উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তথ্য অধিকার সংক্রান্ত নতুন বিধান ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।



