বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপের ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) স্বাধীন ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি (ডিআরসি)‑এর কাছে রেখেছে। তবে ডিআরসি‑এর শোনার সম্ভাবনা কম বলে আইসিসি‑সংযুক্ত সূত্র জানিয়েছে।
আইসিসি পূর্বে এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ‑ভারত ম্যাচকে ভারতেই নির্ধারণ করে। ম্যাচের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৪‑২ ভোটে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ঝুঁকিকে ‘কম থেকে মাঝারি’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে দলকে ভারত ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয়। এই অবস্থানকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও সমর্থন করেন, ফলে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচের স্থানান্তর দাবি শক্তিশালী হয়।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বোর্ডের উপর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিআরসি‑এর কাছে শেষ সুযোগ হিসেবে আবেদন করা হয়। বুলবুলের দল সব সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবহার করে ম্যাচকে অন্য দেশে সরানোর চেষ্টা করেছে, তবে আইসিসি‑এর অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী ডিআরসি‑এর শোনার ক্ষমতা সীমিত।
ডিআরসি‑এর প্রধান হিসেবে ইংল্যান্ডের শীর্ষ আইনজীবী মাইকেল বেলফ (সিনিয়র কাউন্সেল) দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিবি‑এর একটি গোপন সূত্র ডিআরসি‑কে জানায় যে, যদি ডিআরসি বিসিবি‑এর পক্ষে না যায়, তবে শেষ বিকল্প হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS)‑এ আপিল করা সম্ভব।
ডিআরসি‑এর টার্মস অব রেফারেন্সের ধারা ১.৩ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, এই কমিটি আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা রাখে না। তাই আইসিসি‑এর অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, বিসিবি‑এর আবেদন শোনার তালিকায় উঠবে না।
আইসিসি বোর্ডের আরেকটি সূত্র জানায়, যদিও বাংলাদেশ ডিআরসি‑এর কাছে আবেদন করতে পারে, তবে নিয়ম অনুযায়ী এই মামলার শোনার অধিকার ডিআরসি‑এর নেই। ফলে ডিআরসি‑এর শোনার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।
ডিআরসি‑এর শোনার অনুমোদন না পেলে বিসিবি শেষ বিকল্প হিসেবে সুইস কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিলের পথ অনুসরণ করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি বিবেচনায় তা কার্যকর হবে কিনা তা অনিশ্চিত।
বর্তমানে আইসিসি‑এর নিরাপত্তা মূল্যায়ন ‘কম থেকে মাঝারি’ হিসেবে রেট করা হয়েছে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তে ম্যাচটি ভারতেই অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবি‑এর শেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, দলকে নিরাপত্তা উদ্বেগ সত্ত্বেও ভারত ভ্রমণ করতে হবে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত, এবং বাংলাদেশ‑ভারত ম্যাচের তারিখ ও সময় অপরিবর্তিত থাকবে। আইসিসি‑এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
সারসংক্ষেপে, বিসিবি‑এর শেষ আবেদন ডিআরসি‑এর শোনার অধিকার না থাকায় প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা বেশি। আইসিসি বোর্ডের ১৪‑২ ভোটে নেওয়া নিরাপত্তা‑ভিত্তিক সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে, এবং ম্যাচটি নির্ধারিতভাবে ভারতেই অনুষ্ঠিত হবে।



