গার্ডিয়ান আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সিতে নতুন সকার প্রতিবেদক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদে নিযুক্ত সাংবাদিকের দায়িত্ব দেশের ফুটবল (সকার) ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা, ঐতিহাসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বিশ্লেষণ করা। তিনি অফিসের দেয়ালে ‘সকার – ৮০’ দশকের খেলাধুলা’ শিরোনামের একটি পুরনো পতাকা ঝুলিয়ে রেখেছেন, যা তার কাজের মূল থিমকে প্রতিফলিত করে।
প্রতিবেদকের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে, যখন সকার যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিদেশি এবং অপ্রচলিত হিসেবে বিবেচিত হতো। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আমেরিকান জনসাধারণের মনোযোগ মূলধারার খেলাধুলা যেমন বেসবল ও আমেরিকান ফুটবলের দিকে বেশি ছিল। তবু এই অদ্ভুত পরিবেশই তাকে সকারের প্রতি আকৃষ্ট করে, এবং তিনি নিজের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় মাঠে খেলা শুরু করেন।
কিশোর বয়সে স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসের সময়, তিনি জোহান ক্রুইফের নেতৃত্বে বার্সেলোনার দলকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন। ক্রুইফের খেলাধুলা এবং নীরভান্দের ‘নেভারমাইন্ড’ অ্যালবামের প্রভাব তার মনের মধ্যে সকারের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। এক বছর পরে তিনি টেনেসি, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন, যেখানে ১৯৯৩ সালে কোনো প্রধান লিগের অস্তিত্ব ছিল না। সেই সময় তিনি ন্যাশভিল মেট্রোসের পুরনো এ-লিগের ম্যাচগুলো প্রায় ৭৫ জন অনন্য ভক্তের সঙ্গে উপভোগ করতেন, যা তাকে ‘অসামান্যদের উৎসব’ বলে বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
সকারের দেশীয় স্তরে স্বীকৃতি পেতে বড় একটি ধাপ আসে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজনের মাধ্যমে। এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফলে সকার সম্পূর্ণভাবে আমেরিকান জনমনের মধ্যে প্রবেশ করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এখন আমেরিকান ভোক্তারা রাতের অল্প সময়ে বিদেশি লিগের ম্যাচও অনুসরণ করেন, এবং দেশীয় লিগের প্রতি আগ্রহও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
প্রতিবেদনকারী ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে সকার নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন, যেখানে তিনি ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞানিক দিকগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি লক্ষ্য করেন, বেসবল বা আমেরিকান ফুটবলের মতো প্রতিষ্ঠিত খেলাগুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ গল্প ইতিমধ্যে রচিত হয়েছে, তবে আমেরিকান সকারের ক্ষেত্রে এখনও অগণিত অজানা দিক রয়েছে। অতীত ও বর্তমানের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে তিনি বিশ্বাস করেন, এই ক্ষেত্রের সম্ভাবনা অনন্ত।
সকারের উত্থানকে সমর্থনকারী বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্প্রসারণ, মিডিয়ার বাড়তি কভারেজ এবং ক্লাবগুলোর আর্থিক অবকাঠামোর উন্নতি উল্লেখযোগ্য। যদিও এখনও বড় লিগের স্তরে আন্তর্জাতিক মানের সমতা অর্জন সম্পূর্ণ হয়নি, তবু ধারাবাহিকভাবে দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়ছে।
গার্ডিয়ান নতুন প্রতিবেদকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সকারের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, সকারের গল্পগুলোকে শুধুমাত্র ম্যাচের স্কোরে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে তার প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি। এভাবে তিনি আশা করেন, আমেরিকান সকারের অনন্যতা এবং বিকাশের গতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাবে।
প্রতিবেদকের কাজের পরিধিতে রয়েছে দেশের প্রধান লিগের সিজন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় ক্লাবের সামাজিক প্রকল্প। তিনি আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া নতুন সিজনের সূচি এবং সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোও পাঠকদের জানাবেন। এভাবে গার্ডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সকারের সমগ্র চিত্রকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখছে।



