28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিউগান্ডার নির্বাচনের পর ২,০০০ বিরোধী সমর্থক আটক, ৩০ জন নিহত

উগান্ডার নির্বাচনের পর ২,০০০ বিরোধী সমর্থক আটক, ৩০ জন নিহত

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দুই হাজারের বেশি বিরোধী সমর্থককে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ত্রিশজনের মৃত্যু ঘটেছে। নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী ঘটনার বিশদ জানাতে সরকার ও বিরোধী উভয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর প্রধানের মতে, গ্রেপ্তার ও হত্যার সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে, কারণ নিরাপত্তা দলগুলো বিরোধী সমর্থকদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছেন।

মুহুজি কাইনেরুগাবা, যিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের পুত্র, তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনের পর উদ্ভূত অশান্তি দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা ও নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করে দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব জোর দিয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ৮১ বছর বয়সী ইয়োয়েরি মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রায় চার দশক ধরে উগান্ডার শীর্ষে রয়েছেন এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছেন।

মুসেভেনি ১৯৮৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, যা তাকে আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী শাসক করে তুলেছে। তার শাসনামলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়েছে।

বিরোধী ঘাঁটিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উপস্থাপনকারী হলেন জনপ্রিয় পপ গায়ক ববি ওয়াইন, যিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করে মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি নির্বাচনে প্রায় ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ হন।

ববি ওয়াইন নির্বাচনের ফলাফলকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে ব্যাপক ভোটচুরির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন যে ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ফলাফল বিকৃত করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে।

ফলাফল অস্বীকারের পর ববি ওয়াইন তার সমর্থকদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানান। তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে আহ্বান জানিয়ে জনগণকে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য একত্রিত হতে বলছেন।

অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে, এই আহ্বানকে অশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই ধরনের সহিংসতা ও গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও উগান্ডার নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিরোধী দলের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

উগান্ডার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, কারণ সরকার ও বিরোধী উভয়েরই শক্তিশালী সমর্থকগণ রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী নিরাপত্তা পদক্ষেপগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংলাপের পথ খোঁজা জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments