মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসের কলাম্বিয়া হাইটস উপশহরে গত সপ্তাহে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা চারজন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে, যার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী লিয়াম কোনেজো রামোস নামের একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনার তথ্য স্থানীয় স্কুল প্রশাসন ও পরিবারের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ধরা পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজন ১৭ বছর বয়সী, একজন ১০ বছর বয়সী এবং একজন পাঁচ বছর বয়সী ছিলেন। আটককৃত শিশুর পরিবার দাবি করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ আশ্রয় আবেদনকারী এবং আইসিই কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্রেফতার হয়েছে।
লিয়ামের পিতা ইকুয়েডরের নাগরিক এবং তার সঙ্গে তার সন্তানও একইভাবে ইকুয়েডরীয় নাগরিক। উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রক্রিয়ার অধীনে বৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং কোনো অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হননি।
ধরা পড়া দুজনকে টেক্সাসের ডিলি শহরের পারিবারিক আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবী মার্ক প্রোকশ বর্তমানে তাদের মুক্তির জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আইসিই কর্মকর্তারা সম্প্রতি তাদের এলাকার চারটি শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তারা স্কুলের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
স্টেনভিকের মতে, আইসিই কর্মীরা স্কুল বাসের রুট অনুসরণ করে, পার্কিং লটে প্রবেশ করে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলাচল করছিলেন। তিনি বলেন, এমন উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের হস্তক্ষেপ তাদের সম্প্রদায়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং বিশেষ করে ছোট শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্কুল প্রশাসনও নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে লিয়ামের পিতা, অ্যাড্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেজো আরিয়াস, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তবে তিনি গ্রেফতার প্রক্রিয়া বা আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করেননি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, লিয়াম এবং তার পিতা প্রি-স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্যারেজে উপস্থিত ছিলেন, তখন মুখোশধারী আইসিই কর্মীরা পিতাকে গ্যারেজ থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন। একই সময়ে শিশুটিকে জিম্মি করে বাড়ি থেকে তার মাকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
লিয়ামের পরিবার আইনজীবী গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে আইসিই কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আশ্রয় নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ এবং দ্রুত আইনি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
ধরা পড়া ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। আইসিই কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের ওপর ফেডারেল তদারকি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও শিশু অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্রতর করেছে। বিশেষ করে স্কুলের আশেপাশে আইসিই উপস্থিতি এবং অপ্রয়োজনীয় গ্রেফতারকে নিয়ে নাগরিক সমাজ ও আইনগত সংস্থাগুলো সমালোচনা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নীতি সংশোধনের দিকে ধাবিত হতে পারে।



