ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের বর্তমান আমির, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিনাজপুরের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত দশ দলীয় ঐক্য রেলিকের প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের গঠন হলে দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি এই ঘোষণা করেন নির্বাচনী জনসভার মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলকে কৃষি‑শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু করতে চায়।
রেলিকটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা জামায়াতের নীতি‑নির্দেশনা শোনার সুযোগ পায়। অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল আকর্ষণ ছিল তার সরকার গঠনের শর্তে দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশন করা এবং গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যদি তার দল ক্ষমতায় আসে, তবে দিনাজপুরের নাগরিকদের গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে। এই প্রতিশ্রুতি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ জনগণের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে ইঙ্গিত করে, যা দীর্ঘদিনের ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কৃষি‑শিল্পের রাজধানী গড়ে তুলতে তিনি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও লজিস্টিক সিস্টেমের উন্নয়নের কথা বলেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা এবং বাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান কৃষকদের মুখোমুখি সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, উৎপাদিত ফসলের সঠিক বাজারমূল্য না পাওয়া এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে ফসলের ক্ষতি হওয়া সাধারণ ঘটনা। এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়, এটাই তার যুক্তি।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তিনি ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক গুদাম ও শীতল সংরক্ষণ সুবিধা স্থাপন করা হবে, যাতে ফসলের ক্ষতি কমে এবং কৃষকের হাতে ন্যায্য মূল্য পৌঁছায়।
ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ডা. শফিকুর রহমান পুরো দেশের জন্য সারা বছর সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহক ও উৎপাদক উভয়েরই উপকার হবে।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা এই ঘোষণার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেন, সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর ও গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা সহজ নয় এবং এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন অপরিহার্য। এছাড়া, সংরক্ষণাগার নির্মাণে বিনিয়োগের পরিমাণ ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে প্রকল্পের সাফল্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই রেলিকের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়: সরকার গঠনের শর্তে তারা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পকে মূল মন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। যদি আগামী নির্বাচনে তাদের দল ক্ষমতায় আসে, তবে দিনাজপুরের নগরায়ন ও কৃষি সংস্কার নীতি দেশের অন্যান্য উত্তরবঙ্গীয় জেলা ও শহরে প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশেষে, ডা. শফিকুর রহমানের এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হবে নির্বাচনের ফলাফল এবং সম্ভাব্য জোট গঠন। তিনি এবং তার দল এখনো ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছেন, এবং এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সম্ভাবনা ও নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই রেলিকের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



