বাংলাদেশের তরুণ পেসার আল ফাহাদ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বি গ্রুপের ম্যাচে নতুন রেকর্ড তৈরি করে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯ ওভারে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে দুই শিকারের মাধ্যমে তিনি ৫০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন করেন, এবং তা মাত্র ২৫ ম্যাচে সম্পন্ন করেন। এই ফলাফল তাকে ইউ১৯ ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বনিম্ন ম্যাচে ৫০ উইকেট নেওয়া খেলোয়াড়ের শিরোপা এনে দেয়।
ম্যাচের তৃতীয় ওভারে ফাহাদ আরজুন মাহেশকে আউট করে মাইলফলকের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যান। পরের দিকে ৪৭তম ওভারে আদিত কাপ্পাকে বিদায় জানিয়ে তিনি ৫০ উইকেটের সংখ্যা পূর্ণ করেন। উভয় শিকারের পরিসংখ্যানই দেখায় যে তিনি সীমিত রানের মধ্যে বেশি শিকারের সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম।
এই রেকর্ডের পূর্বে ভারতীয় বোলার ভিজায়কুমার ইয়ো মাহেশ ২৬ ম্যাচে ৫০ উইকেটের সীমা অতিক্রম করে ছিলেন। ফাহাদের ২৫ ম্যাচে অর্জিত মাইলফলক সেই রেকর্ডকে অতিক্রম করে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স তুলনা করলে দেখা যায়, ফাহাদ কম ম্যাচে বেশি শিকারের মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি করেছেন।
ফাহাদের টুর্নামেন্টের সূচনা ছিল চমকপ্রদ। ভারতের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৩৮ রান দিয়ে পাঁচটি শিকারের সাফল্য অর্জন করেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পরের ম্যাচে, বৃষ্টির কারণে রিসার্কুলেটেড গ্রাউন্ডে নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে খেলায় তিনি চার ওভারে কোনো শিকারের সুযোগ পাননি। এই পারফরম্যান্সের পার্থক্য টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।
ইউ১৯ ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ৫০ উইকেটের সীমা অতিক্রমকারী পাঁচজন খেলোয়াড় রয়েছেন। সর্বোচ্চ ৮০ উইকেট নিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজ তালিকায় শীর্ষে আছেন। তার পর ইকবাল হোসেন ৭১ উইকেট, মাহমুদুল হাসান ৬৬ উইকেট, সালেহ আহমেদ শাওন ৬০ উইকেট এবং সোহরাওয়ার্দী শুভ ৫৫ উইকেটের সঙ্গে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দলীয় বোলিং শক্তির ধারাবাহিক উন্নয়নকে নির্দেশ করে।
ফাহাদের এই সাফল্য বাংলাদেশি তরুণ বোলিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোচিং স্টাফের মতে, ধারাবাহিক শিকারের মাধ্যমে তিনি দলের কৌশলগত সুবিধা অর্জনে সহায়তা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি শিকারের মাধ্যমে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশ আবারও গ্রুপের শীর্ষ দলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হবে, যেখানে ফাহাদের বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। তার দ্রুত শিকারের গতি এবং সঠিক লাইন-লেংথের ব্যবহার দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে পারে।
ইউ১৯ বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে ফাহাদের রেকর্ড ভাঙা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ বোলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।



