জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের পঞ্চগড়‑১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেবে নাকি পিছিয়ে ফেলবে তা নির্ধারণের মূল মুহূর্ত হবে।
আলমের বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে দেশের নতুন দিকনির্দেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন সেই দিকনির্দেশকে দৃঢ় করার দ্বিতীয় পর্যায় হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনই ভবিষ্যতে দেশের অগ্রগতি বা পেছনের দিকে সরে যাওয়া নির্ধারণের চাবিকাঠি হবে।
জনসভায় আলমের মতে, এই লড়াই চাঁদাবাজ, দখলদার এবং মিথ্যা মামলার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হবে। তিনি বলছেন, যারা জনসাধারণকে হুমকি দেয় বা হয়রানি করে তাদের বয়কট করা প্রয়োজন। এ ধরনের বয়কটের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গে আলম উল্লেখ করেন, দিনবেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং রাতের আঁধারে মাদক ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়া ব্যক্তিদের বয়কটের আহ্বান জানাতে হবে। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে সমাজের সকল স্তরে একসাথে কাজ করা দরকার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। কিছু ব্যক্তি দিনের বেলা শিক্ষার উন্নয়নের কথা বললেও, রাতের সময় তাদের দলীয় সহযোগীদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। আলমের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে আলমের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে জনদরদি সেজে থাকা এবং নির্বাচনের পরে জনগণের কাছ থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তিনি এমন রাজনৈতিক প্রথার সমালোচনা করেন, যেখানে শ্রমিকের সন্তানকে শ্রমিক বানিয়ে রাখা হয়, আর নিজের সন্তানদের বিদেশে পাঠানো হয়।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আলম বলেন, কিছু লোক প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার কথা বললেও গোপনে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি করে। তিনি এ ধরনের অনিয়মের বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলমের বক্তব্যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণও উঠে আসে; তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আল্লাহ্ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে আগামী পঞ্চাশ বছরেও এমন সুযোগ আসবে।
সারজিস আলমের এই মন্তব্যের পরেও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।
এখন পর্যন্ত এনসিপি ও তার জোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা আলমের বক্তব্যে সাড়া দিয়ে তালি ও নাড়ি তুলেছেন। নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রম তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে। তবে এখনো ভোটারদের মতামত ও অংশগ্রহণের হার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সারসংক্ষেপে, সারজিস আলমের মতে, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের অগ্রগতি বা পেছনের দিকে সরে যাওয়া নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে এবং তিনি সকল নাগরিককে এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।



