গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় শুক্রবার বিকেলে এক যুবক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারান। ঘটনাটি দুপুর ১টার কাছাকাছি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় ঘটেছে।
মৃত ব্যক্তির নাম সাইদ মোল্লা, বয়স ২৫ বছর, তিনি কুশলী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রাম, আজাদ মোল্লার সন্তান। সাইদ গোনাপাড়া থেকে নিজের বাড়ি রামচন্দ্রপুরের পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
সাক্ষী জানিয়েছেন, সাইদ মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় গতি বাড়িয়ে চালাচ্ছিলেন এবং হঠাৎ গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনে আঘাত করেন। আঘাতের ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
মালেক বাজারে পৌঁছানোর সময় অতিরিক্ত গতি এবং মোবাইল ব্যবহার একসাথে ঘটায় নিয়ন্ত্রণের অভাব। সাইদের গাড়ি বিভাজনে আঘাতের ফলে তার শারীরিক অবস্থা তীব্রভাবে অবনতি ঘটে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা সাইদকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করার পর, তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, সাইদের শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদ মোল্লা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। তার দেহে গাড়ির আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল এবং চিকিৎসকরা জানান, আঘাতের তীব্রতা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসার অভাবই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই মোসলেম আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যান। তিনি জানান, সাইদ গোনাপাড়া থেকে রামচন্দ্রপুরের পথে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এসআই মোসলেম আলী আরও উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ট্রাফিক আইন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানোকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে। সাইদের মৃত্যুর পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ট্রাফিক পুলিশ এই ধরনের লঙ্ঘন রোধে সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অতীতেও গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালনা এবং মোবাইল ব্যবহার সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
অধিকাংশ ট্রাফিক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সড়ক নিয়মের কঠোর প্রয়োগ এবং জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই দিকগুলোতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



