ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘আলোর দিশা’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক যুবকের মৃত্যু ঘটায় বিশাল বিশৃঙ্খলা। রাজ্জাক মাতুব্বর নামের ২০‑বছর বয়সী রোগীকে মঙ্গলবার রাতেই ভর্তি করা হয়, আর শুক্রবার সকালে তাকে অসুস্থ বলে জানিয়ে মৃতদেহ পাওয়া যায়।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রের অধিকাংশ রোগী দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং ভবনের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করে। গ্লাস ভেঙে, দরজা ও জানালার ফ্রেম ভেঙে, আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভাঙ্গা থানা ওসি আব্দুল আলীমের মতে, মৃতদেহটি পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃতদেহে বেশ কয়েকটি চিহ্ন দেখা যায়; নাক ও কানের মাধ্যমে রক্তপাতের চিহ্ন, পাশাপাশি দেহে গাঢ় দাগ রয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল অটোসোমি ল্যাবরেটরিতে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের মতে, ঘটনার পর ৫১ জন রোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। হেফাজতে থাকা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড বাড়ানো হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় তদন্তের অংশ হিসেবে, জেলা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং কেন্দ্রের সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
শিরিন আক্তার জানান, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে সিল করা হয়েছে এবং রোগীদের পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, হেফাজতে থাকা ৫১ জন রোগীর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
আইনি দিক থেকে, মৃতদেহের উপর গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নজরদারি ও সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়ার পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



