কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ঘাটে শুক্রবার সকাল ২৩ জানুয়ারি, বিএনপি কক্সবাজার‑১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ লবণ শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি গাড়ি থামিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাগত জানিয়ে “তোয়ারা ক্যান আছো” বলে শুভেচ্ছা জানান এবং আঞ্চলিক ভাষায় কথোপকথনে মেতে উঠেন।
সাক্ষাৎকারের সময় শ্রমিকরা জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে লবণ চাষের অবস্থা তেমন ভাল নয়। উৎপাদন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে তারা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ শ্রমিকদের এই সমস্যার প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি শাসনে লবণ উৎপাদনকারীদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে আবার সরকার গঠন করলে এই নীতি পুনরায় চালু হবে। বর্তমানে অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় থাকায় লবণ আমদানি বন্ধ করা হয়েছে, এ কথাও তিনি জানান।
আহমদ এরপর নিজের নামের সঙ্গে ভোটের আহ্বান করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না এবং শীঘ্রই ক্ষমতায় ফিরে লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি দেশের, জনগণের এবং চাষীদের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিতে বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত শ্রমিকদের সঙ্গে সেলফি তোলেন।
এই সাক্ষাৎকারটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঘটেছে এবং স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আহমদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথোপকথন শেষে বিদায় নেন। তিনি ভবিষ্যতে লবণ শিল্পের উন্নয়ন, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং আমদানি নীতি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
লবণ শ্রমিকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে শীঘ্রই সরকারী নীতি পরিবর্তন হলে তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ এই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, অস্থায়ী সরকারের অধীনে লবণ আমদানি বন্ধ করা হয়েছে, যা স্থানীয় উৎপাদনকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্ণাঙ্গ ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে বিএনপি সরকার গঠন করা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, লবণ শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আহমদ ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। তিনি শ্রমিকদের সমস্যার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যৎ নীতি সম্পর্কে আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন।
বিএনপি দলের অন্যান্য নেতারাও লবণ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে, দেশের রপ্তানি ও আয় বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা উল্লেখ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অস্থায়ী সরকারের নীতি অনুযায়ী লবণ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় উৎপাদনই প্রধান সরবরাহের উৎস।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই সফর এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথোপকথন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তিনি লবণ শ্রমিকদের সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার পাশাপাশি, নিজের ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ধরনের সরাসরি সাক্ষাৎকারকে ব্যবহার করছেন।
কক্সবাজারের লবণ শ্রমিকরা আশা করছেন যে শীঘ্রই ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের নীতি কার্যকর হবে এবং উৎপাদন খরচের চাপ কমবে। একই সঙ্গে তারা আহমদের প্রতিশ্রুতি অনুসরণে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।
এই ঘটনাটি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং ভোটের আগে লবণ শিল্পের সমস্যাগুলি রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।



