২১ বছর বয়সী আমেরিকান ফরোয়ার্ড আলিসা থম্পসন সেপ্টেম্বর মাসে চেলসি মহিলা দলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইংল্যান্ডে পা বাড়িয়ে দেন। ২০২৩ সালের ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগ (NWSL) ড্রাফটে তার হোমক্লাব এঞ্জেল সিটি তাকে প্রথম পিক হিসেবে বেছে নেয়ার পর, তিনি লস এঞ্জেলেসে গড়ে তোলা ক্যারিয়ারকে ছেড়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
থম্পসনের ফুটবলের যাত্রা ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়; তিনি চেলসি ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবকে আদর্শ হিসেবে দেখেছেন এবং ইউরোপে খেলতে চাওয়ার স্বপ্ন গড়ে তুলেছেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার মুহূর্তে তিনি বললেন, ইউরোপের বড় ক্লাবের সঙ্গে খেলতে পারা তার জন্য অস্বীকার করা কঠিন ছিল। তিনি যুক্তি দেন, চেলসিতে জয়ের মানদণ্ড ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে অভ্যস্ত মানসিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে ক্লাবের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
এঞ্জেল সিটিতে তার সময়কে তিনি “স্বপ্নের বাস্তবায়ন” হিসেবে বর্ণনা করেন। সেখানে তার ছোট বোন গিসেলেও পরে সই করে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়, ফলে পরিবারিক সমর্থন ও উপস্থিতি তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গেমের দিন গিসেল এবং অন্যান্য পরিবারিক সদস্য স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকায় থম্পসনের জন্য মাঠের বাইরে একটি ঘনিষ্ঠ পরিবেশ তৈরি হয়।
চেলসিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, থম্পসন তার জাতীয় দলে প্রধান কোচ এমা হেজের সঙ্গে আলাপ করেন। হেজ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে গিসেল ছাড়া কীভাবে সামলাবেন তা নিয়ে। থম্পসন স্বীকার করেন, সেই কথোপকথন তাকে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করতে সাহায্য করেছে এবং তিনি নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। হেজের সমর্থন ও পরামর্শ তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইংল্যান্ডে তার নতুন প্রশিক্ষণভূমি চেলসির কোবহাম ক্যাম্পাস, যেখানে তিনি কোচ সোনিয়া বোম্পাস্টরের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। বোম্পাস্টর, যিনি দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেন, থম্পসনের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রশংসা করেন এবং তাকে ইংরেজি ফুটবলের শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে নির্দেশ দেন। থম্পসন প্রশিক্ষণ সেশনে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, যাতে তিনি দলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় অবদান রাখতে পারেন।
পরিবারের দূরত্বের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, থম্পসন নতুন পরিবেশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, লস এঞ্জেলেসের আরামদায়ক পরিবেশ থেকে দূরে সরে এসে ইউরোপীয় ফুটবলের উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং চেলসির সঙ্গে দলীয় জয় অর্জনে সহায়তা করা।
থম্পসনের চেলসিতে যোগদানের ফলে দলটি তার গতিশীলতা ও গতি ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়াতে পারে। কোচ বোম্পাস্টর ভবিষ্যৎ ম্যাচে তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়ে বলছেন, যে তিনি দলের কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবেন। থম্পসন বর্তমানে কোবহাম প্রশিক্ষণ মাঠে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শীঘ্রই লিগের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চেলসি মহিলা দল এই মৌসুমে লিগ শিরোপা ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্য রাখছে, এবং থম্পসনের যোগদানকে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তি দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যা ভবিষ্যৎ গেমে ফলপ্রসূ হতে পারে।
যদিও এখনো তার প্রথম ম্যাচের সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি, তবে ক্লাবের অফিসিয়াল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শীঘ্রই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে থম্পসনের পারফরম্যান্স নজরে থাকবে। তার প্রশিক্ষণ অগ্রগতি ও মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া দলীয় কৌশলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।



