শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চূড়ান্ত ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস টস জিতে প্রথমে বলিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টস জয়ী দল রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শুরুর দায়িত্ব নেয়, ফলে শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রাথমিক চাপ তৈরি করা হবে।
চট্টগ্রাম ও রায়শাহী এই মৌসুমে ইতিমধ্যে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে; লিগ পর্যায়, কোয়ালিফায়ার এবং এখন ফাইনাল। ত্রয়ী সাক্ষাতে চট্টগ্রাম দুবার জয়লাভ করেছে, আর রায়শাহী একবার বিজয় অর্জন করেছে। এই ঐতিহাসিক মুখোমুখি আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে।
টুর্নামেন্টের শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন মালিকানার অধীনে দলটি বলিংকে মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে রায়শাহীর শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে সীমাবদ্ধ রাখা যায়।
বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছে শোরিফুল ইসলাম, যিনি এই মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৪টি উইকেট নিয়ে শীর্ষ বোলার হিসেবে স্বীকৃত। নতুন বল দিয়ে তিনি দ্রুত গতি ও সঠিক লাইন বজায় রেখে রায়শাহীর ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রাথমিক প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত।
চট্টগ্রামের স্পিন বিভাগে ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান ও তানভীর ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয়ই টেকসই স্পিন দিয়ে রায়শাহীর মাঝারি ও শেষ ওভারে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখবে। অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে হাসান নওয়াজের পার্ট-টাইম অফ-স্পিনও ব্যবহার করা হতে পারে।
ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান এবং তানভীর ইসলামের পাশাপাশি শোরিফুলের সঙ্গে রয়েছে আমের জামাল ও মুকিদুল ইসলাম, যারা ত্রয়ী পেসার হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করে নেবে। এই ত্রয়ী গত ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে গতি ও লাইন বজায় রেখে রায়শাহীর শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের সীমাবদ্ধ করেছে।
রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের দিক থেকে ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তো, যিনি ৩৪৪ রানের সঙ্গে টুর্নামেন্টের তৃতীয় শীর্ষ স্কোরার, বড় স্কোরের প্রত্যাশা রাখছেন। তার নেতৃত্বে দলটি উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যাতে চূড়ান্ত স্কোরে প্রভাব ফেলতে পারে।
রায়শাহীর ওপেনার সায়েবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম শুরুর ওভারে দ্রুত রানের প্রবাহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উভয়ই পূর্বের ম্যাচে শক্তিশালী স্টার্ট দিয়ে দলকে ভাল ভিত্তি দিয়েছে, তাই ফাইনালে তাদের পারফরম্যান্স ম্যাচের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন রায়শাহীর ব্যাটিং লাইনআপে নতুন শক্তি যোগ করেছে। ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ভক্তদের আকর্ষণীয় দৃষ্টিপাতের কেন্দ্রবিন্দু, এবং উচ্চ স্কোরের মাধ্যমে দলকে সমর্থন করার প্রত্যাশা রয়েছে।
উইলিয়ামসনের সঙ্গে তার ব্ল্যাক ক্যাপস দলমেট জিমি নীশামও রয়েছে, যিনি অল-রাউন্ডার হিসেবে রায়শাহীর শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নীশামের রিদম ও ব্যাটিং-বোলিং সমন্বয় দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পূর্ণ দল গঠন করা হয়েছে: মির্জা বায়গ, মোহাম্মদ নাঈম, মাহমুদুল হাসান জয়, হাসান নওয়াজ, আসিফ আলি, ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান, আমের জামাল, তানভীর ইসলাম, জাহিদুজ্জামান (উইকেটকিপার), মুকিদুল ইসলাম ও শোরিফুল ইসলাম।
রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের দলে রয়েছে সায়েবজাদা ফারহান, তানজিদ তামিম, কেন উইলিয়ামসন, ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তো ও উইকেটকিপার মুশফিকুর রহমান। উভয় দলে কোনো পরিবর্তন না করে পূর্বের সফল সংযোজন বজায় রাখা হয়েছে, ফলে ফাইনাল ম্যাচে কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে শুরুর বলিংয়ের কার্যকারিতা এবং ব্যাটিং লাইনআপের স্থিতিশীলতার ওপর। উভয় দলই শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরিশ্রমের ফল দেখাবে, এবং শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মাটিতে নতুন বিজয়ীর নাম গড়ে তুলবে।



