খুলনা জেলার দুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা থেকে জামায়াত‑ই‑ইসলামি খুলনা‑৫ প্রার্থী মিয়া গোলাম পারওয়ার সম্প্রতি একাধিক সমাবেশে জামায়াতকে কুফর ও শির্কের সঙ্গে তুলনা করা অনুচিত ও অজ্ঞতার কাজ বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস‑আল্লাহ, নবী (স.আ.), ফেরেশতা, পরকালের অস্তিত্ব ও কিস্মত‑এ বিশ্বাসী যে কোনো মুসলিমকে কফিরূপে চিহ্নিত করার কোনো অধিকার নেই।
সমাবেশে পারওয়ার বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রহমানের প্রতি প্রশ্ন তোলেন; তিনি যদি জামায়াতকে ১৯৭১ সালের অপরাধী হিসেবে গণ্য করেন, তবে তার মা কেন জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করতে বলা উচিত। পারওয়ার বলেন, যদি কেউ ফ্যাসিস্টদের দিকে আঙুল তুলতে থাকে এবং একই সঙ্গে ১৯৭১কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, তবে সেই একই নেতিবাচক প্রবণতা তার নিজের মধ্যেও দেখা যায়।
পারওয়ার জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতকে কখনো জোটের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়, আর যখন তা সুবিধাজনক নয় তখন তাকে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি জিয়াুর রহমানের শাসনকালে একাধিক এমন ব্যক্তিকে উচ্চ পদে নিয়োগের উদাহরণ দেন, যারা একসময় একতাবাদী পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন; এর মধ্যে শাহ আজিজুর রহমান ও আবদুর রহমান বিস্বাসের নাম উল্লেখ করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াুর রহমানের মৃত্যুর পরপরই যারা শাসন গ্রহণ করেছে, তারা পার্টি‑সংক্রান্ত স্বার্থে বিকৃত বর্ণনা গড়ে তুলেছে, পারওয়ার সমালোচনা করেন। ঐতিহাসিক বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক সম্ভব হলেও, জামায়াতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপরাধমূলক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়া অন্যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় ১৯৭১ সালের সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল, তিনি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং বিভাজন দূর করতে চেয়েছিলেন, পারওয়ার বলেন। মুজিবের সময়ে সহযোগী আইন বাতিল করা হয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়; একই দৃষ্টিভঙ্গি জিয়াুর রহমানের শাসনেও দেখা গিয়েছিল।
ভোটারদের ‘দারিপল্লা’ চিহ্নে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়ে পারওয়ার বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার দুর্নীতি, দমন ও অপব্যবস্থার অবসান ঘটাতে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের কোনো সময়ে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার প্রমাণ নেই।
এই বক্তব্যগুলো দুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সমাবেশে শোনা যায়। পারওয়ার উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো যখন নিজেদের স্বার্থে ঐতিহাসিক ঘটনা ব্যবহার করে, তখন তা দেশের সংহতি ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
পারওয়ার জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের মৌলিক নীতি অনুযায়ী কোনো মুসলিমকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে কফিরূপে চিহ্নিত করা যায় না; এমন কাজ ধর্মীয় নীতি ও মানবিক ন্যায়বিচারের বিরোধী। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াতের প্রতি আক্রমণকে অবৈধ ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেন।
বিএনপি নেতা তারিক রহমানের প্রতি পারওয়ার প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক জোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দেন। তিনি দাবি করেন, যদি কোনো দলকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে তার সঙ্গে যুক্ত সকলেরই সেই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
পারওয়ার জামায়াতের ইতিহাসে একাধিক সরকারী দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তির উল্লেখ করে বলেন, যদিও কিছু সময়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করা হয়েছে, তবু তা রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে এবং ধর্মীয় নীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
শেষে পারওয়ার ভোটারদের আহ্বান জানান, ‘দারিপল্লা’ চিহ্নের মাধ্যমে তারা এমন একটি শাসনকে সমর্থন করতে পারে, যা দুর্নীতি ও দমনমুক্ত, এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে ঐতিহাসিক সত্যকে ভিত্তি করে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।



