রাজস্থান হাইকোর্টের ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল অনুমোদনের পর, আলওয়ার জেলার বারোদামেভে দুই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ২০২৪ সালের শুক্রবার বিয়ে করলেন। প্রিয়া শেঠ (নেহা শেঠ নামেও পরিচিত) এবং হনুমান প্রসাদ দুজনই আজীবন কারাদণ্ডে শাস্তি পেয়ে সাঙ্গানা ওপেন জেলে কারাবাস করছেন।
প্রিয়া শেঠের অপরাধ ২০১৮ সালে টিন্ডার অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় থেকে শুরু হয়। তার সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পর, শর্মার পরিবার থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। ১০ লক্ষ রুপি দাবি করার পর ৩ লক্ষ রুপি পাওয়া সত্ত্বেও, শর্মা পুলিশের সন্দেহে পড়ার আশঙ্কা করে তাকে হত্যা করা হয়। শর্মার দেহকে ছুরিকাঘাত করে সুটকেসে ভরে আলওয়ারের আমের পাহাড়ে ফেলা হয়; এই ঘটনার জন্য প্রিয়া শেঠকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হনুমান প্রসাদের অপরাধ ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ঘটে। এক প্রেমিকার প্ররোচনায় তিনি তার স্বামী বনওয়ারী লালকে হত্যা করেন এবং একই রাতে ঘুমন্ত চার শিশুকে নির্মমভাবে গুলি করে মেরে ফেলেন। এক রাতেই পাঁচজনের মৃত্যু ঘটার ফলে এই কাণ্ড আলওয়ার জেলার ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মামলায়ও হনুমানকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রিয়া ও হনুমান প্রায় ছয় মাস আগে সাঙ্গানা ওপেন জেলে প্রথম সাক্ষাৎ করেন। জেলখানার সাধারণ কার্যক্রমের সময় কথোপকথন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। দুজনই সাজা পেয়েও একে অপরের সঙ্গে জীবনের সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে প্যারোলের আবেদন হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
রাজস্থান হাইকোর্টের প্যারোল অনুমোদন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। আদালত ১৫ দিনের প্যারোল মঞ্জুর করে, যাতে দুজনই বিয়ের আচার সম্পন্ন করতে পারেন এবং পরে আবার জেলে ফিরে যান। প্যারোলের শর্তে কোনো অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করা, নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলে ফিরে আসা অন্তর্ভুক্ত।
বিবাহের আচার আলওয়ারের বারোদামেভে স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পরিবারিক সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। উভয়ের পরিবার ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন, যদিও রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে এই ঘটনার ওপর বিতর্ক ও সমালোচনা তীব্র হয়েছে। কিছু নাগরিক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্যারোলকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে অপরাধের শাস্তি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলছেন।
বিবাহের পর, দুজনই পুনরায় সাঙ্গানা ওপেন জেলে ফিরে যান। আদালত প্যারোলের শর্তাবলী অনুসরণ না করলে শাস্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। বর্তমানে উভয়ের বিরুদ্ধে কোনো নতুন অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে ভবিষ্যতে প্যারোলের শর্ত লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, রাজস্থানের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন দুজনের প্যারোল অনুমোদন নিয়ে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, সাজা ও মানবিক দিকের সমন্বয় প্রয়োজন, তবে অপরাধের গুরুতরতা ও সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অধিকন্তু, রাজ্য হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা চলমান রয়েছে। কিছু আইনি বিশ্লেষক উল্লেখ করছেন যে, প্যারোলের সময়সীমা ও শর্তাবলী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় সঙ্গতি বজায় থাকে।
প্রিয়া ও হনুমানের মামলায় ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে, তবে আপিলের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন, উভয়ের বর্তমান সাজা ও প্যারোলের শর্তাবলী বজায় থাকবে।
রাজস্থানের পুলিশ ও জেল প্রশাসন উভয়ই এই ঘটনার পর জেলভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে ওপেন জেলে বন্দীদের মধ্যে যোগাযোগের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে অনধিকারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা রোধ করা যায়।
সারসংক্ষেপে, দুজন সাজাপ্রাপ্ত খুনি প্যারোলের মাধ্যমে বিয়ের আচার সম্পন্ন করেছেন, তবে তাদের শাস্তি ও ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এই ঘটনা রাজ্যের আইন, মানবিকতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।



