20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপঞ্চগড়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের মেডিকেল কলেজ ও দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি

পঞ্চগড়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের মেডিকেল কলেজ ও দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি

পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে শুক্রবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বক্তৃতা শুরু করেন। এই সভা জুমার নামাজের আজানের পর অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে উচ্চ সাড়া পায়।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের ৬৪টি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসা সেবা পেতে দূরত্ব অতিক্রম করা সাধারণ মানুষের জন্য সম্ভব নয়, তাই প্রতিটি জেলার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ে নতুন মেডিকেল কলেজের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় রোগীর চিকিৎসা সুবিধা বাড়াবে।

বক্তৃতার মাঝামাঝি তিনি পঞ্চগড়‑১ ও পঞ্চগড়‑২ আসনের জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীকী উপহার দিয়ে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন। প্রথম প্রার্থী সারজিস আলমকে শাপলা কলি এবং দ্বিতীয় প্রার্থী সফিউল আলমকে দাঁড়িপাল্লা প্রদান করা হয়, যা ঐতিহ্যবাহী সমর্থনের চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জোটের ঐক্য ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জোর দেওয়া হয়।

অপরদিকে, শফিকুর রহমান দেশের আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি বিদেশে কোটি কোটি টাকা নিয়ে গেছে এবং তা পুনরুদ্ধার করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেবে। “আমরা চোরদের পেটের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অর্থ বের করে আনব” এমন দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আর কোনো চোরকে কাজ করতে দেওয়া হবে না, এটাই তার লক্ষ্য।

বক্তব্যের শুরুর দিকে তিনি উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিকভাবে গরিব নয়, বরং রাজনৈতিক নীতি দ্বারা তা বজায় রাখা হয়েছে। এই অঞ্চলকে দেশের পুষ্টি ও খাদ্যের মূল সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করে, তার উন্নয়নের জন্য বিশেষ মনোযোগের দাবি তোলেন। তিনি নিজেকে এই অবহেলার সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেন।

শফিকুর রহমানের ভাষায় তিনি জনগণের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার কাছে কোনো রাজনৈতিক কার্ড নেই, বরং জনগণই তার সত্যিকারের সমর্থক। জনগণের ভালবাসা ও দোয়া দিয়ে তিনি বেকারত্বমুক্ত ও দায়মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তিনি কোনো গোষ্ঠীর পাত্র হয়ে দেশের কোনো অঞ্চলে মানুষকে বসিয়ে রাখার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন।

জনসভার সময় তিনি করের ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি জানান, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে অন্যায়ভাবে কোনো ধনসম্পদ সঞ্চয় করা হবে না। যুবকদের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং নারীদের ক্ষমতায়ন করতে তিনি বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। পরিবারকে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা হবে, এটাই তার পরিকল্পনা।

শফিকুর রহমানের শেষ মন্তব্যে তিনি উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আর কোনো বেকার মুখ দেখতে চাই না এবং সব যুবককে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে চান। এই প্রতিশ্রুতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এই জনসভা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি জোটের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে। তবে প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবুও, এই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments