ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (IFFR) ট্রেলার প্রকাশিত টার্কি পরিচালক এরোল মিনতাশের দ্বিতীয় ফিচার ‘Earth Song’ ত্রিপীড়িত পরিবারের গোপন রূপকথা উন্মোচন করে। চলচ্চিত্রটি ত্রয়ী প্রজন্মের মধ্যে স্মৃতি, বিচ্ছিন্নতা এবং আত্ম-অন্বেষণের গল্পকে কেন্দ্র করে, যা আজকের বিশ্বে পরিচয় ও পুনর্মিলনের প্রশ্ন উত্থাপন করে।
প্রধান চরিত্র রোজিনের ভূমিকায় ডিলান গুইন অভিনয় করেছেন; তিনি কুর্দিশ-ফিনিশ বংশোদ্ভূত একজন অ্যানেস্থেসিয়োলজিস্ট, যিনি অধিকাংশ সময় ফিনল্যান্ডে কাটিয়েছেন। মানবিক কাজের জন্য তিনি বহুবার বিদেশে গিয়েছেন, তবে তার নিজের পরিবারে শূন্যতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়ে গেছে।
রোজিনের ১২ বছর বয়সী কন্যা আজাদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ টানটান হয়ে উঠেছে, কারণ রোজিনের কাজের ব্যস্ততা ও পারিবারিক অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, রোজিনের স্বামী ফারহাতের সঙ্গে বিবাহিত জীবনের উত্তেজনা বাড়ছে, যা পরিবারের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিবারের অতীতের গোপনীয়তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে, যখন রোজিনের বাবা নিজাম সুইডেন থেকে ভ্রমণ করে। নিজামের আগমনে রোজিন জানে যে তার নিজের অতীতের কিছু অংশ তিনি জানেন না। বাবা ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুর্কি সামরিক কুপের সময় লুকিয়ে রেখেছিল এমন একটি গোপন, যা এখন রোজিনের সামনে উন্মোচিত হয়।
নিজামের কথায় রোজিন জানতে পারে যে আজাদ আসলে দত্তক নেওয়া হয়েছে, যা রোজিনের জন্য নতুন এক দায়িত্বের সূচনা করে। তার নিজের জন্মের সত্য জানার পাশাপাশি, রোজিন আজাদের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক গড়তে চায়। এই উদ্দেশ্যে তিনি কুর্দিস্তানে যাত্রা শুরু করেন, যেখানে তিনি নিজের শিকড় ও পরিবারের গোপনীয়তা উন্মোচনের চেষ্টা করেন।
‘Earth Song’ চলচ্চিত্রটি কুর্দিশ জনগণের নির্যাতন, নির্বাসন এবং ভূমি হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। শিরোনামটি ল্যাংস্টন হিউজের ‘An Earth Song’ কবিতার থেকে অনুপ্রাণিত, যা পুনর্জন্ম ও পুনর্নবীকরণের প্রতীক। চলচ্চিত্রের গল্পে এই থিমগুলোকে আধুনিক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরিচালক মিনতাশের মতে, যদিও চলচ্চিত্রের পটভূমি কুর্দিশ ও তুর্কি ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত, তবু এটি ফিনল্যান্ড ও ইউরোপের জন্যও একটি ব্যাখ্যামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। তিনি আশা করেন যে এই কাজের মাধ্যমে ইউরোপীয় দর্শকরা কুর্দি ও তুর্কি সম্প্রদায়ের গঠনমূলক অভিজ্ঞতা বুঝতে পারবে, যা আজকের সমাজে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করে।
মিনতাশ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর যাত্রা, চাহিদা এবং আত্ম-অন্বেষণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের স্তরগুলো একে অপরের ওপর গড়ে উঠলেও, শেষ পর্যন্ত চরিত্রগুলোর মানবিক দিকই গল্পের মূল চালিকাশক্তি।
‘Earth Song’ এর উৎপাদন মি. … (প্রযোজকের নাম) নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি মিনতাশের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে চিহ্নিত। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা গ্লোবাল দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চলচ্চিত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি কুর্দি জনগণের নির্যাতন ও নির্বাসনের স্মৃতিকে প্রতিফলিত করে, পাশাপাশি মানবিক পুনর্মিলনের সম্ভাবনা তুলে ধরে। চলচ্চিত্রের শিরোনাম ও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, এটি দর্শকদেরকে অতীতের কষ্টকে স্বীকার করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
‘Earth Song’ এর মাধ্যমে ত্রিপীড়িত পরিবারের গোপন সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং তিন প্রজন্মের মধ্যে পুনর্মিলনের পথ খুঁজে পাওয়া যায়। চলচ্চিত্রটি কুর্দি, তুর্কি এবং ফিনিশ সংস্কৃতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে, দর্শকদেরকে মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
এই চলচ্চিত্রটি কেবল কুর্দি-তুর্কি ইতিহাসের একটি দৃষ্টান্ত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী বিচ্ছিন্নতা ও পরিচয়ের সন্ধানকারী সকলের জন্য একটি প্রতিফলনমূলক কাজ। ‘Earth Song’ এর মুক্তি ও ফেস্টিভ্যাল অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রেমিকরা কুর্দি-ফিনিশ ডায়াস্পোরার গল্পে গভীরভাবে ডুবে দেখতে পারবেন।



