মুম্বাইয়ের ইয়াশ রাজ ফিল্মস স্টুডিওতে রানি মুখার্জি ও কারন জোহার এক কথোপকথনে শিল্পী তার কন্যা আদিরা ও প্রয়াত দাদী যশ চোপড়ার মধ্যে অদ্ভুত সাদৃশ্যের কথা প্রকাশ করেছেন। এই আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং রানি তার ত্রিশ বছরব্যাপী হিন্দি চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনের কিছু দিক তুলে ধরেছেন।
কথোপকথনের সময় রানি তার স্বামী আদিত্য চোপড়ার ব্যক্তিত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আদিত্য দৈনন্দিন জীবনে সরলতা ও মৌলিকতা বজায় রাখেন, যা তার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তার পিতামাতার প্রতি সম্মান ও অহংকারের অভাব তাকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে, ফলে রানি তার প্রতি আকৃষ্ট হন।
রানি ও আদিত্য ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে একটি গোপনীয় অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ই মিডিয়ার নজর এড়িয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, ফলে তাদের বিবাহের তথ্য সীমিতভাবে প্রকাশ পায়। এক বছর পর, ডিসেম্বর ২০১৫-এ তাদের কন্যা আদিরা পৃথিবীতে আসেন, যা দুজনের জীবনে নতুন রঙ যোগ করে।
আদিরার সৃজনশীল প্রবণতা নিয়ে রানি বিশেষভাবে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কন্যা লেখালেখি ও গল্প বলার ক্ষেত্রে চমৎকার দক্ষতা প্রদর্শন করে, যা তাকে যশ চোপড়ার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। রানি বিশ্বাস করেন, আদিরা তার দাদীর সৃজনশীল আত্মা ও স্বামীর প্রভাবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, ফলে কখনও কখনও তিনি কল্পনা করেন যে কন্যা হয়তো যশ চোপড়ার পুনর্জন্ম হতে পারে।
কন্যার লেখালেখি ও বর্ণনাশৈলীর প্রশংসা করে রানি উল্লেখ করেন, আদিরা ছোটবেলা থেকেই গল্প গড়ে তোলার এবং শব্দের মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। এই গুণগুলো তাকে পরিবারের সৃজনশীল ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে তুলে ধরে। রানি বিশ্বাস করেন, আদিরার এই প্রতিভা তার দাদীর শিল্পী আত্মা ও স্বামীর চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রানি তার পেশাগত দায়িত্বেও ব্যস্ত। তিনি বর্তমানে ‘মর্দানি ৩’ ছবির প্রস্তুতিতে নিয়োজিত, যেখানে তিনি শিবনি শিবাজি রয় চরিত্রে ফিরে আসবেন। এই চলচ্চিত্রে তিনি আবারও নারী অধিকার রক্ষার মিশনে ফিরে আসবেন, যা পূর্বের দুই ভাগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
‘মর্দানি ৩’ এর গল্প রচয়িতা আয়ুষ গুপ্ত এবং পরিচালনা করেছেন অভিরাজ মিনওয়ালা। ছবিটি আদিত্য চোপড়ার প্রযোজনা সংস্থা ইয়াশ রাজ ফিল্মসের তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে এবং জানুয়ারি মাসে থিয়েটারে মুক্তি পাবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। রানি এই প্রকল্পে তার চরিত্রের গভীরতা ও সামাজিক বার্তা তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রানি মুখার্জি এই সুযোগে তার ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনের সমন্বয় নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তার প্রধান লক্ষ্য, আর পরিবারে সন্তানকে সৃজনশীল পরিবেশে লালন করা তার গর্বের বিষয়।
রানির এই উন্মুক্ত আলোচনা তার ভক্ত ও শিল্প জগতের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। কন্যা আদিরার সৃজনশীলতা ও দাদীর স্মৃতির সংযোগের কথা শোনার পর অনেকেই তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ‘মর্দানি ৩’ এর মুক্তি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, যা রানি ও তার পরিবারকে নতুন সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে।



