বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮টি জেলায় অন্তত ৮০টি সরকারী স্বাস্থ্যসুবিধা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এই সুবিধাগুলো সম্পূর্ণ নির্মাণের পরেও কোনো রোগী সেবা প্রদান করে না এবং উল্লেখযোগ্য সরকারি ব্যয় সত্ত্বেও ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিবেদনটি জানায় যে, বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০-শয্যা ট্রমা সেন্টার, শিশু হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং কর্মী বাসস্থানসহ বিভিন্ন ধরণের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। কিছু সুবিধা ২০২৪ সালে সম্পন্ন হয়েছে, অন্যগুলো দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত রয়েছে। কাঠামোগতভাবে সবই সঠিক অবস্থায় আছে, তবে সেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, সরঞ্জাম এবং কার্যকরী বাজেটের অভাবে এগুলো নিস্তেজ রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা manpower ঘাটতি, সরঞ্জামের অভাব এবং অপারেটিং বাজেটের অনুপস্থিতি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এই সমস্যাগুলো প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যায় থেকেই উপেক্ষিত হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা ছাড়া হাসপাতাল নির্মাণ করা মানে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়েছে; এটি কেবল অবকাঠামো নির্মাণ এবং সেবা বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে প্রকাশ করে।
বৈধভাবে গৃহীত এই তথ্যগুলো দেখায় যে, অব্যবহৃত সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা শুধুমাত্র একক ঘটনা নয়, বরং একটি ব্যাপক সিস্টেমিক সমস্যার প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মী অনুপস্থিতি, দায়িত্বহীনতা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত। একই সঙ্গে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেফারেল ফানেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এই অবস্থা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হ্রাসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রোগীর জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল না থাকলে জরুরি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে রোগের প্রগতি দ্রুত হতে পারে। এছাড়া, সরকারি সম্পদের অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।
অবশ্যই, এই সমস্যার সমাধানে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন। প্রথমে, বন্ধ থাকা সুবিধাগুলোর জন্য স্পষ্ট কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করে তা দ্রুত কার্যকর করা উচিত। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করে কার্যকরী বাজেট বরাদ্দ করা জরুরি। তৃতীয়ত, অব্যবহৃত হাসপাতালগুলোকে পুনরায় চালু করার জন্য পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা দরকার।
সার্বিকভাবে, সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধার ব্যবহারযোগ্যতা বাড়াতে নীতি নির্ধারক, প্রশাসক এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। অব্যবহৃত হাসপাতালগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করা কেবল রোগীর সেবা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিরও মূল চাবিকাঠি।
আপনার মতামত কী? সরকার কীভাবে এই অব্যবহৃত স্বাস্থ্যসুবিধাগুলোকে কার্যকর করে তুলতে পারে, এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা উচিত?



