পঞ্চগর জেলার চিনিকল মাঠে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিতির সংখ্যা, স্থান ও সময় উল্লেখ করে বলেন, আজকের সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হল জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন।
বক্তা জানান, জামায়াতের কোনো ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র নেই; জনগণই তাদের ‘কার্ড’। তিনি সমাবেশে উপস্থিত সকলকে ‘ভাইবোন’ বলে সম্বোধন করে, জনগণের হৃদয়ে একটি ভালোবাসার চিহ্ন রাখতে চান এবং তাদের দোয়া ও সমর্থনকে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, কঠিন সময়ে বা দুর্যোগের মুহূর্তে দল কখনোই জনগণকে একা ছেড়ে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও তা পরিবর্তন হবে না। তিনি দেশের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, ‘জীবন‑মরণে একসঙ্গে লড়াই করবো’ বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তা উল্লেখ করেন, তিনি আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসেননি, বরং দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে রাখা হয়েছে, এ কথাটি তিনি স্পষ্ট করে বলেন এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নকে নিজের হৃদয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উত্তরবঙ্গের অবস্থা বদলাতে পাঁচ বছর যথেষ্ট সময় হবে, এ কথা তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে, এ ধরনের সমবায় মনোভাবকে তিনি জোর দেন।
কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে আর বেকার যুবক দেখতে চান না। প্রত্যেক নাগরিকের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ নিশ্চিত করা দলীয় লক্ষ্য, এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার কথা বলেন। পঞ্চগরেও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং চুরি হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকার কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করে এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, এ বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন।
শিল্প উন্নয়নের দিকেও তিনি দৃষ্টিপাত করেন। উত্তরবঙ্গকে শিল্পের রাজধানী গড়ে তুলতে চান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুবসমাজের হাত শক্তিশালী করে দেশের দায়‑দায়মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেন।
বক্তা শেষ করেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে এবং কোনো পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি নতুন রূপে ফিরে আসতে না পারে, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও পরিকল্পনা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।



