দিনাজপুর, রংপুর বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যেখানে ২০২৬ সালের শুক্রবার জুমা-উপরান্তে গোর-এ-শহীদ ময়দানে দশ দলীয় ঐক্য জোটের অধিবেশনে জামায়াত‑ইসলামির আমির শফিকুর রহমান সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তর জেলা হিসেবে অনেক জায়গায় জেলা হেডকোয়ার্টার সিটি কর্পোরেশন হিসেবে কাজ করে, কিন্তু দিনাজপুরে এখনও তা হয়নি। এই বৈষম্য দূর করার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন।
শফিকুরের বক্তব্যে তিনি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাকিস্তান শাসনকালে ১৯টি বড় জেলা ছিল, যার মধ্যে দিনাজপুরকে শস্যভাণ্ডার হিসেবে গণ্য করা হতো। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট খাদ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এই অঞ্চলের উৎপাদন থেকে আসে। তবে কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের পরেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার সীমিত থাকায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়।
অধিকন্তু, তিনি ২০২৬ সালের বর্তমান অবস্থা তুলনা করে বলেন, বিশ্বে অনেক দেশ স্বাধীনতার পর ২৫ বছরের মধ্যে কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশে একই রকম আধুনিকায়ন না হওয়ায় দিনাজপুরের কৃষকরা যথাযথ ফলন পায় না। এ জন্য তিনি উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যেখানে আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থা, ন্যায্য মূল্য এবং স্বল্পমূল্যে কৃষককে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে।
শফিকুরের মতে, সিটি কর্পোরেশন গঠনের সঙ্গে সঙ্গে শহরের অবকাঠামো, সেবা ও উন্নয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশ্বাস দেন, যদি জামায়াত‑ইসলামি সরকার গঠন করতে পারে, তবে দিনাজপুরের নগরায়ন ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি তার সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পায়, যারা তার কথায় বিশ্বাস রেখে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ও বিশ্লেষকরা শফিকুরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, জামায়াত‑ইসলামি দীর্ঘদিনের বিরোধের পরেও এখনো সরকার গঠনের সুযোগ পেতে চায়, এবং এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া, কিছু সমালোচকরা উল্লেখ করেন, সিটি কর্পোরেশন রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও আর্থিক কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়, যা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
শফিকুরের বক্তৃতা শেষের দিকে তিনি দিনাজপুরের কৃষক, কিষাণ ও কৃষি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতি ত্যাগ করে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে, যাতে উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়।
এই ঘোষণার পর, দিনাজপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াত‑ইসলামির এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এটি স্থানীয় রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকার গঠন ও নগরায়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হবে, তা দেখার বিষয়।
শফিকুরের বক্তৃতা এবং তার দলীয় সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার গঠনের সম্ভাবনা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুরের উন্নয়নকে কেন্দ্রবিন্দু করা। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সরকার গঠন করা সম্ভব হয়, তবে দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশন রূপে রূপান্তরিত করে শহরের অবকাঠামো, সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দ্রুত বাড়ানো হবে। এই প্রতিশ্রুতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও আর্থিক ব্যবস্থা এখনও স্পষ্ট করা বাকি।



