যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড‑সংক্রান্ত হুমকি ইউরোপে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, তবে ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপকে কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপের আওতায় আনতে চায় না। ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারে বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং সংসদের অর্থবিষয়ক কমিটির প্রধান এরিক কোকরেল মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ যে প্রতিবেশী ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে, তার সঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজনের কোনো সম্পর্ক কল্পনাও করা কঠিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার থেকে বিশ্বকাপের আয়োজনের স্বত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও দেন।
এর পর মারিনা ফেরারি সংযত অবস্থান গ্রহণ করে বলেন, বর্তমান সময়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বয়কটের কোনো ইচ্ছা নেই, যদিও কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ভিন্নমত শোনা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা সর্বোত্তম।
ফরাসি ফুটবল কোচ ক্লদ লে রয়ও এই আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের আফ্রিকা‑মহাদেশের প্রতি আচরণ বিবেচনা করে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান করা উচিত কিনা তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। লে রয়ের এই মন্তব্য ফরাসি সরকারকে কিছুটা চাপের মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে, জার্মান সরকার এই বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মানির ক্রীড়া বিষয়ক রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান শেন্ডারলাইন এএফপিকে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে জানান, বড় ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ বা বয়কটের সিদ্ধান্ত কেবল সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনগুলোর অধিকার।
ফিফার ভূমিকা এই বিতর্কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সমালোচনার মুখে। গত ডিসেম্বরের বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো একটি বিশেষ “ফিফা পিস প্রাইজ” ট্রাম্পের হাতে উপস্থাপন করেন, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে।
ইনফান্তিনোর এই পদক্ষেপের ফলে ফিফা এবং ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সমালোচকরা দাবি করেন, ক্রীড়া সংস্থার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এড়ানো উচিত।
ফরাসি সরকার এখন পর্যন্ত স্পষ্ট রেখেছে, বিশ্বকাপের আয়োজনের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা। তবে কোকরেল ও লে রয়ের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মন্তব্য ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, ভূ-রাজনৈতিক হুমকি এবং নৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন একসঙ্গে উদ্ভূত হয়েছে। ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক চাপের মুখেও খেলাধুলার স্বতন্ত্রতা রক্ষার চেষ্টা করছে।
বিশ্বকাপের আয়োজনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আবারও এই ইভেন্টের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা দিকে ঝুঁকেছে।
পরবর্তী ধাপে ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক বিবাদ ক্রীড়া ইভেন্টকে প্রভাবিত না করে। ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড হুমকি ইউরোপে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুললেও, ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এখনো বিশ্বকাপকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্তে অটল, যদিও দেশীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ বিদ্যমান। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক ক্রীড়া ও রাজনীতির সীমারেখা পুনর্নির্ধারণে কী প্রভাব ফেলবে তা দেখা বাকি।



