19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের গণভোটের অগণতান্ত্রিকতা দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম চ্যালেঞ্জ

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের গণভোটের অগণতান্ত্রিকতা দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম চ্যালেঞ্জ

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, বামপন্থী নয়টি দলের জোট, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রেফারেন্ডাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি আজ সকালে ঢাকা সেগুনবাগিচার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে তাদের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ ইশতেহার উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বজলুর রশীদ ফিরোজ উল্লেখ করেন, দেশের দীর্ঘদিনের অপেক্ষিত জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এবং পূর্বের তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের শাসন নিশ্চিত করা এই জোটের মূল লক্ষ্য।

একই সময়ে তিনি জানিয়ে দেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। যদিও সিপিবি, বাসদসহ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অংশীদার দলগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে, তবু তারা এখনও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে ভাবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে এবং গণভোটকে একক ‘হ্যাঁ/না’ প্যাকেজে সীমাবদ্ধ করেছে, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তারা যুক্তি দেন, এই পদ্ধতিতে ভোটারদের ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নেই, ফলে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না।

বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও উল্লেখ করেন, যদি জোট নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে জুলাই সনদের ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন সত্ত্বেও, ভিন্নমতকে জনগণের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি রেফারেন্ডামের আয়োজনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন এবং বলেন, সনদে আট মাসের আলোচনা ও নোট অব ডিসেন্টের মূল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সনদে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনা না থাকা, রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতির প্রতি অমর্যাদা, এবং পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের সঙ্গে আদালতে চ্যালেঞ্জের নিষেধাজ্ঞা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে – এসবই জোটের প্রধান অভিযোগ।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারে তারা ১৮টি বিষয়ের ওপর অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, এবং স্বশাসন নিশ্চিত করা। এই অঙ্গীকারগুলোকে তারা দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রেফারেন্ডামের হ্যাঁ-না প্যাকেজের পদ্ধতি দ্রুত ও সহজ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রণীত, তবে জোটের দাবি অনুযায়ী এটি মতবৈচিত্র্যের সুযোগ না দিয়ে একধরনের একমত প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করে। ভবিষ্যতে যদি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে রেফারেন্ডামের ফলাফল ও সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ রেফারেন্ডামের বৈধতা ও সংবিধানিকতা নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে। পাশাপাশি, নির্বাচনের ফলাফল এবং জোটের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন নাগরিকদের প্রত্যাশা ও সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments