মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেপিমর্গন চেজের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যমানের মামলা দায়ের করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ব্যাংক তার এবং তার ব্যবসার সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়, যা রাজনৈতিক কারণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
মামলায় ট্রাম্প এবং তার ব্যবসা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জেপিমর্গন চেজের সিইও জেমি ডিমনও মামলায় নাম উল্লেখিত, ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংক ও ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ব্যাংকটি জানিয়েছে যে, তার কোনো অ্যাকাউন্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ভিত্তিতে বন্ধ করা হয় না। জেপিমর্গন চেজের মুখপাত্রের মতে, অ্যাকাউন্ট বন্ধের মূল কারণ হল আইনগত বা নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি, যা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
ট্রাম্পের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ ক্যাপিটল হিলের ওপর হিংসাত্মক দাঙ্গা ঘটার পর ব্যাংক তার সব অ্যাকাউন্ট হঠাৎ বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প ‘সিস্টেমিক, সাবভার্সিভ’ শিল্পের একটি কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা জনমতকে রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে চায়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, জেপিমর্গন চেজের সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত, ওয়োক’ মতবাদের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যাংকটি ট্রাম্পের রক্ষণশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে সরে যায়। ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগে ব্যাংককে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ তৈরির অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তার নাম এবং তার ব্যবসা বা পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তালিকাটি শেয়ার করা হলে ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলাটি ফ্লোরিডা আদালতে দায়ের করা হয়েছে, যেখানে রাজনীতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গ্রাহকদের বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। ফ্লোরিডা আইন অনুযায়ী, ব্যাংককে গ্রাহকের রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে সেবা প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
জেমি ডিমন, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জেপিমর্গন চেজের নেতৃত্বে আছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের ক্রেডিট কার্ড সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব, অভিবাসন নীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এই সমালোচনা এবং ট্রাম্পের মামলা ব্যাংকের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ব্যাংকটি মামলাটিকে ‘অবৈধ’ এবং ‘অবৈধ দাবি’ হিসেবে খারিজ করেছে, এবং আদালতে তার যুক্তি উপস্থাপন করার প্রস্তুতি জানিয়েছে। জেপিমর্গন চেজের আইনগত দল দাবি করে যে, কোনো রাজনৈতিক প্রেরণা ছাড়া ব্যাংক তার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসারে কাজ করেছে।
এই মামলাটি আর্থিক খাতে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যাংকগুলোকে এখন আরও সতর্ক হতে হবে যে, তাদের গ্রাহক ব্যবস্থাপনা নীতি কীভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ট্রাম্পের মামলা সফল হয়, তবে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক বিচ্ছিন্নতা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিত্তিক সেবা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে, ব্যর্থতা ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করতে পারে।
অবশেষে, এই আইনি লড়াই আর্থিক সেক্টরের নিয়ন্ত্রক পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষের যুক্তি আদালতে কীভাবে মুল্যায়ন হবে, তা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং নীতি এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলবে।



