প্রতিবছরের রিপাবলিক ডে-তে গৃহীত সরকারি গানের রচয়িতা হিসেবে এম.এম. কীরবানীকে আজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই বছর ‘ভাঁড়ে মাতরম’ শিরোনামের গানের সুর রচনা ও সজ্জা সম্পূর্ণভাবে তারই দায়িত্ব। তিনি এই কাজটি গ্রহণের সময় যে উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, তা তার দীর্ঘকালীন সঙ্গীত প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক পটভূমির ফলাফল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীরবানীর সঙ্গীত যাত্রা তার পিতার কঠোর শিকড়ে গড়ে উঠেছে। তার পিতা, শ্রী শিবদত্ত, যিনি বোম্বে জে. জে. স্কুল অফ আর্টস-এ শিক্ষা গ্রহণ করেন, তিনি মদন মোহন, এস. ডি. বর্মনসহ বহু পুরোনো সুরকারের রচনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। শিবদত্তের শেষ দিনগুলোতে তিনি মারাঠি সুরকার সুধীর ফাদকের ‘তোচ চন্দ্রমা নাভাত’ গানটি বারবার শোনার অভ্যাস গড়ে তোলেন, যা কীরবানীর সুরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে।
কীরবানী সুধীর ফাদকের ‘গীত রামায়ণ’ গানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন এবং তার সৃষ্টিকর্মে শব্দ ও সুরের সমন্বয় কীভাবে করা যায়, তা থেকে বহু শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এই প্রেরণা তাকে ‘ভাঁড়ে মাতরম’ গানের রচনায় আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে, যা তিনি নিজে উল্লেখ করেছেন।
গানের রচনায় সঙ্গীত নাট্য একাডেমির চেয়ারপারসন শান্ধ্যা পুরেচার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শান্ধ্যা পুরেচা, যিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, নৃত্যশৈলী এবং সংস্কৃত ভাষার গভীর জ্ঞান ধারণ করেন, তিনি কীরবানীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তার নির্দেশনা ও সমর্থন কীরবানীকে গানের থিম ও অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বুঝতে সহায়তা করে।
রেকর্ডিং প্রক্রিয়ায় হায়দ্রাবাদে একাধিক সেশন পরিচালিত হয়। চেন্নাই ও মুম্বাই থেকে বহু সঙ্গীতশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে গানের সুর ও বাদ্যযন্ত্র রেকর্ড করা হয়। সেশন চলাকালে সঙ্গীত নাট্য একাডেমির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা রেকর্ডিংয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন। পুরো প্রক্রিয়া মোট ২২ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
গানের রচয়িতার দায়িত্বের পাশাপাশি কীরবানী তার প্রিয় দেশপ্রেমিক গানের তালিকাও উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ইতিহাসে অসংখ্য গৌরবময় গানের সমাহার রয়েছে, যা তিনি বিশেষভাবে পছন্দ করেন, যদিও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি।
‘ভাঁড়ে মাতরম’ গানের রচয়িতা হিসেবে কীরবানীর এই দায়িত্ব, দেশের জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে রিপাবলিক ডে-তে গৃহীত হবে। তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে দেশের প্রতি গর্ব ও একাত্মতা প্রকাশ পাবে, যা দেশের নাগরিকদের হৃদয়ে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে।
এই গানের রচয়িতা হওয়া কীরবানীর জন্য একটি সম্মানজনক মুহূর্ত, যা তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



